অক্ষয় কুমারের 'ভূত বাংলা' সেন্সর কাঁচির শিকার, মুক্তি পিছিয়েছে ১৭ এপ্রিলে
অক্ষয় কুমারের 'ভূত বাংলা' সেন্সর কাঁচির শিকার, মুক্তি পিছিয়েছে

অক্ষয় কুমারের 'ভূত বাংলা' সেন্সর কাঁচির মুখে, মুক্তি পিছিয়েছে ১৭ এপ্রিলে

বলিউডের আসন্ন হরর কমেডি মুভি 'ভূত বাংলা', যেখানে অভিনয় করেছেন অক্ষয় কুমার, তা সেন্সর বোর্ডের কঠোর সমীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে। ছবিটি মূলত ১০ এপ্রিল মুক্তির জন্য নির্ধারিত ছিল, কিন্তু রণবীরের 'ধুরন্ধুর ২' এর মুক্তির তারিখের সঙ্গে সংঘাতের কারণে এখন ১৭ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে আসছে। সিনেমার ট্রেলার ও গান দর্শকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেললেও, মুক্তির আগে সেন্সরের সঙ্গে সমঝোতা করতে হয়েছে নির্মাতাদের।

সেন্সর বোর্ডের কাঁচি ও সার্টিফিকেশন

সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) ২ এপ্রিল 'ভূত বাংলা' কে 'ইউএ' সার্টিফিকেট প্রদান করেছে, যার অর্থ অনূর্ধ্ব ১৬ বছরের দর্শকদের অভিভাবকের উপস্থিতিতে ছবিটি দেখা যাবে। এই প্রক্রিয়ায় ছবিতে ব্যাপক রদবদল ঘটেছে। সেন্সর বোর্ড সংলাপ থেকে শুরু করে সাবটাইটেলে থাকা অশালীন শব্দগুলিতে কাঁচি চালিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিবিএফসির পরীক্ষক কমিটি ছবির একাধিক বিষয়ে আপত্তি তুলে পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে। প্রায় ১০ মিনিটের দৃশ্য সিনেমা থেকে সম্পূর্ণভাবে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। বিশেষ করে, ২৬ মিনিটের মাথায় ব্যবহৃত একটি অশালীন শব্দ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর আরও একটি অশালীন শব্দের প্রয়োগেও সেন্সরের কাঁচি চলেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আপত্তি ও সংশোধন

সিনেমার প্রথমার্ধে নারীদের প্রতি অবমাননাকর একটি সংলাপ নিয়েও সেন্সর বোর্ড আপত্তি তুলেছিল, এবং ওই শব্দের পরিবর্তে অন্য কোনো শব্দ প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছিল। এছাড়া, ধর্মীয় ও কুসংস্কার–সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সঙ্গে বিজ্ঞপ্তি যোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সব বদল সম্পন্ন হওয়ার পর, ২ এপ্রিল সিবিএফসি 'ভূত বাংলা' নির্মাতাদের হাতে সেন্সর সার্টিফিকেট তুলে দিয়েছে। সংশোধনের পর নির্মাতারা যে নতুন সংস্করণ জমা দিয়েছেন, তাতে মোট ৬৩টি দৃশ্য ছাঁটাই করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দৃশ্য ও গানের ক্ষতি

'ভূত বাংলা'য় সবচেয়ে বড় যে দৃশ্যে কাঁচি চলেছে, তার দৈর্ঘ্য ছিল ৭২ সেকেন্ড। 'ও সুন্দরী' গানের একটি দৃশ্য সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে, এবং 'ওরে ও সাওয়ারিয়া' গানের ২৭ সেকেন্ড বাদ পড়েছে। এই সমস্ত পরিবর্তনের ফলে সিনেমার মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ১৬৪ মিনিট ৫২ সেকেন্ড, অর্থাৎ প্রায় ২ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট ৫২ সেকেন্ড।

এই ঘটনা বলিউডে চলচ্চিত্র বিতর্কের নতুন অধ্যায় যোগ করেছে, যেখানে অক্ষয় কুমার ও হিন্দি সিনেমার নির্মাতাদের সেন্সরশিপের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। দর্শকরা এখন ১৭ এপ্রিল মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন, দেখবেন কীভাবে এই সংশোধনগুলি ছবির গুণমানকে প্রভাবিত করে।