স্টার সিনেপ্লেক্সে অনলাইন টিকেট জটিলতায় দর্শকদের ক্ষোভ
বাংলাদেশে সিনেপ্লেক্স চলচ্চিত্র উপভোগের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ঈদ বা বড় মুক্তির সময়ে স্টার সিনেপ্লেক্সে উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন টিকেটিং সিস্টেমে জটিলতার কারণে দর্শকরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
দর্শকদের অভিযোগ ও ক্ষোভ
কবি রুমকি রুসা ঈদে পরিবারসহ চলচ্চিত্র দেখতে চেয়েছিলেন স্টার সিনেপ্লেক্সে। অনলাইনে টিকেট কাটার সময় তার একাউন্ট থেকে নয়টি টিকেটের টাকা কেটে নেওয়া হয়, কিন্তু টিকেট ইস্যু হয়নি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, কোনো টিকেট কাটাই হয়নি বা বিষয়টি দেখা হচ্ছে। এতে হতাশ হয়ে রুমকি রুসা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি লিখেছেন, "স্টার সিনেপ্লেক্স অনলাইন টিকেট নিয়ে কি শুরু করলো! অনলাইন টিকেট কাটতে গিয়ে গত ৩দিনে তারা আমার ৯টা টিকেটের টাকা কেটেছেন কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কথা বলার পর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন কোনো টিকেট ইস্যু হয় নি। মানে কোনো টিকেটই নাকি কাটা হয় নি। আবার বললেন বিষয়টি দেখা হচ্ছে ম্যাম। অনলাইন টিকেট সার্ভিসের যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে অনলাইনে টিকেট বিক্রির দরকারটা কি?"
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন জনপ্রিয় উপস্থাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুন নূর তুষার। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, স্টার সিনেপ্লেক্স অনেক দর্শককে অনলাইনে টিকেট কাটার পর শো না হওয়ায় ক্যানসেল করা টিকেটের রিফান্ড বা টাকা ফেরত দিচ্ছে না, কারো কারো তিন সপ্তাহ হতে চলেছে।
কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা ও প্রতিক্রিয়া
স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ এই সমস্যাগুলোকে স্বাভাবিক কারিগরি জটিলতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, "ঈদ কিংবা বিশেষ চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে দর্শক চাহিদা যখন তুঙ্গে থাকে তখন আমাদের সার্ভারে প্রচুর হিট পড়ে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে একটু টেকনিক্যাল ঝামেলা হয়ে যায়। এটা যে এবারই এমন ঘটলো তা নয়, বিশেষ ক্ষেত্রে হয়, আমরা তা সমাধানও করে ফেলি। হয়তো একটু সময় লাগতে পারে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে অনলাইন টিকেটিং সিস্টেমে একটি নিরাপদ পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করা হয়। কোনো জটিলতা দেখা দিলে বা টিকেট দিতে না পারলে কিংবা শো স্থগিত হলে তারা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তবে রিফান্ড প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেন এবং দর্শকদের ধৈর্য ধরতে আহ্বান জানান।
সমস্যার সমাধান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে ইতিমধ্যেই সৃষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধান করা হয়েছে। তারা বাংলা চলচ্চিত্রের এই দুরবস্থায় সিনেপ্লেক্সের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে বিতর্কের মুখে ঠেলে না দিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে দর্শকরা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। অনলাইন টিকেটিং সিস্টেমে নিয়মিত সমস্যা দেখা দেওয়ায় তারা আরও উন্নত ও নির্ভরযোগ্য সেবা চাইছেন। বিশেষ করে ঈদের মতো ব্যস্ত সময়ে সার্ভার ক্যাপাসিটি বাড়ানো এবং রিফান্ড প্রক্রিয়া দ্রুততর করার দাবি উঠেছে।
সামগ্রিকভাবে, স্টার সিনেপ্লেক্সের অনলাইন টিকেটিং সিস্টেমের উন্নতি না ঘটলে দর্শকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে, যা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে।



