‘প্রেশার কুকার’ এবার লন্ডনে, বাংলা চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক অর্জন
ঈদুল ফিতরের সময় মুক্তি পাওয়া আলোচিত বাংলা চলচ্চিত্র ‘প্রেশার কুকার’ এবার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে যাচ্ছে। দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর থেকেই দর্শকমহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলা এই সিনেমাটি এখন যুক্তরাজ্যের মাটিতে বিশেষ প্রদর্শনীর জন্য প্রস্তুত।
লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রিমিয়ার
আগামী ২২ এপ্রিল লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এর নবম আসর। এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে রায়হান রাফী পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘প্রেশার কুকার’। উৎসব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে ভিন্নধর্মী গল্প এবং ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলী উপস্থাপনের জন্যই এই সিনেমাটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশেষ প্রদর্শনীতে চলচ্চিত্রটির পরিচালক রায়হান রাফী সশরীরে উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এটি পুরো নির্মাণ টিমের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাফী নিজেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রেশার কুকার মূলত একটি আর্টিস্টিক ধাঁচের সিনেমা। এটি উৎসবকেন্দ্রিক দর্শকদের কাছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
চার নায়িকার অভিনয়ে আলোচিত সিনেমা
এই চলচ্চিত্রটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো একসঙ্গে চার নায়িকার অভিনয়। নাজিফা তুষি, শবনম বুবলী, স্নিগ্ধা চৌধুরী এবং মারিয়া শান্তা—এই চার অভিনেত্রীর সমন্বিত পারফরম্যান্স সিনেমাটিকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে। দেশের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটির প্রদর্শনী এখনো চলমান রয়েছে এবং দর্শকরা এটিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।
বিশ্বব্যাপী বাংলা সিনেমার প্ল্যাটফর্ম
‘লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’ দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সিনেমাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে আসছে। এই উৎসবের মাধ্যমে বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, ‘প্রেশার কুকার’ ইতিমধ্যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। চলতি সপ্তাহ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ছবিটির প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। আরও উত্তেজনাপূর্ণ খবর হলো, আগামী সপ্তাহ থেকে উত্তর আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সিনেমা হলে ছবিটি ধাপে ধাপে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
এই আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রায়হান রাফী এবং তার টিমের এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও বেশি বাংলা সিনেমাকে বিশ্বদরবারে উপস্থাপনের পথ সুগম করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



