বনলতা এক্সপ্রেস: হাওয়ার রেকর্ড ভাঙার পথে ঈদের সিনেমার সাফল্য
ঈদুল ফিতরের উৎসবে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া পাঁচটি সিনেমার মধ্যে 'বনলতা এক্সপ্রেস' দর্শকদের মন জয় করেছে। তানিম নূর পরিচালিত এই সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই প্রেক্ষাগৃহগুলোতে দর্শকদের ব্যাপক সমাগম ধরে রেখেছে। দর্শকদের প্রশংসার পাশাপাশি বক্স অফিসেও জমজমাট ব্যবসা করেছে সিনেমাটি, যা ঈদের সিনেমাগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে আঠারো দিন পেরিয়েও।
দেশে-বিদেশে দাপুটে ব্যবসা
প্রযোজনা সূত্রে জানা যায়, 'বনলতা এক্সপ্রেস' এখন দর্শক চাহিদা এবং আয় উভয় ক্ষেত্রেই শীর্ষে রয়েছে। মুক্তির পর থেকে সিনেমাটি দেশে ৬ কোটি টাকারও বেশি টিকিট বিক্রি করেছে, যা দেশীয় বাজারে এর জনপ্রিয়তার প্রমাণ। তবে শুধু দেশেই নয়, বিদেশের বাজারেও সিনেমাটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, বিশেষ করে উত্তর আমেরিকা, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ায়।
আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রস কালেকশন
উত্তর আমেরিকার বাজার থেকে মুক্তির প্রথম তিন দিনেই সিনেমাটি আয় করেছে ১ লাখ ৫৪ হাজার মার্কিন ডলার। প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে মোট গ্রস কালেকশন হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ডলার, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ লাখ ২৪ হাজার মার্কিন ডলার এবং কানাডা থেকে ১ লাখ ২২ হাজার কানাডিয়ান ডলার অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়াও, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে সিনেমাটির গ্রস কালেকশন হয়েছে ৬৩ হাজার ২১৮ ডলার, যেখানে যুক্তরাজ্য থেকে ১৪ হাজার ২১৮ মার্কিন ডলার এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ৪৯ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার আয় হয়েছে।
হাওয়ার রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, শিগগিরই 'বনলতা এক্সপ্রেস' ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া 'হাওয়া' সিনেমার রেকর্ড ভেঙে দেবে। 'হাওয়া' উত্তর আমেরিকা থেকে আয় করেছিল ২ লাখ ৭১ হাজার ডলার, এবং বর্তমান প্রবণতা অনুযায়ী 'বনলতা এক্সপ্রেস' সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে এগোচ্ছে। পরিচালক তানিম নূর বলেন, "দর্শক সিনেমাটি দেখছেন এটাই ভালো লাগার। কারণ দর্শকদের জন্যই সিনেমা বানানো। এই ভালোবাসাই আমাদের কাছে অনুপ্রেরণা।"
সিনেমার পটভূমি ও তারকা শিল্পী
উল্লেখ্য, 'বনলতা এক্সপ্রেস' সিনেমাটি হুমায়ূন আহমেদের 'কিছুক্ষণ' উপন্যাস থেকে অনুপ্রাণিত। এতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন:
- মোশাররফ করিম
- চঞ্চল চৌধুরী
- শরিফুল রাজ
- সাবিলা নূর
- জাকিয়া বারী মম
- আজমেরী হক বাঁধন
- ইন্তেখাব দিনার
- শ্যামল মাওলা
- লাবণ্য চৌধুরী
- শামীমা নাজনীন প্রমুখ
এই তারকাবহুল কাস্ট এবং গল্পের আকর্ষণ সিনেমাটির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বাংলা সিনেমার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।



