ঈদের সিনেমা মুক্তিতে মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিনের ভিন্ন চিত্র
ঈদ উৎসবে মুক্তি পাওয়া ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘দম’, ‘প্রিন্স’, ‘রাক্ষস’ ও ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমাগুলোর প্রদর্শনী চলছে তৃতীয় সপ্তাহেও। প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ভিড় লক্ষণীয় থাকলেও, মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে সন্ধ্যার পর শো বন্ধের সিদ্ধান্ত নতুন অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। একদিকে মাল্টিপ্লেক্সগুলো পিক টাইমে প্রদর্শনী স্থগিত করছে, অন্যদিকে সিঙ্গেল স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহগুলো আগের নিয়মেই চলমান রাখছে—এই দ্বৈত অবস্থা চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ ও ক্ষতির আশঙ্কা
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিপণিবিতান বন্ধ রাখার কারণে, গতকাল প্রথমে ব্লকবাস্টার সিনেমাস সন্ধ্যার পরের শো বন্ধের ঘোষণা দেয়। আজ রোববার সন্ধ্যায় লায়ন সিনেমাস ও স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষও একই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। লায়ন সিনেমাসের প্রতিষ্ঠাতা মির্জা আবদুল খালেক বলেন, ‘সন্ধ্যার সময়টা সিনেমা হলের পিকটাইম, এই সময়টাতে দর্শকের ভিড় অন্য সময়ের তুলনায় বেশি। সাধারণত কর্মজীবী মানুষেরা তাঁদের সব ধরনের কাজকর্ম শেষ করে সন্ধ্যার সময় সিনেমা দেখতে আসেন। পারিবারিক দর্শকের চাপটা এ সময়ে বেশি থাকে। সরকারের নির্দেশনা মানছি আমরা; কিন্তু বলতে চাই, অন্তত সিনেমা হলগুলোর ক্ষেত্রে এটা বিবেচনা করলে ভালো হতো। এটা আমাদের যেমন ব্যবসায়িক মারাত্মক ক্ষতি, তেমনি চলচ্চিত্র প্রযোজকদেরও; এমনকি চলচ্চিত্রশিল্পের জন্য অশনিসংকেত। ঈদ উৎসবের পর যেভাবে দর্শকেরা সিনেমা দেখছিলেন, সেই আগ্রহটা একেবারে কমে যাবে।’
স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের এজিএম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদও একই সুরে বলেন, মার্কেট বন্ধ থাকলে দর্শক আসার সুযোগ কমে যায়। তাই পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বিকেল পর্যন্তই শো চালানো হবে, সন্ধ্যার পরের সব প্রদর্শনী বন্ধ থাকবে। ব্লকবাস্টার সিনেমাসের সহকারী ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান জানান, অফিস শেষে দর্শকেরা সাধারণত সন্ধ্যার পর পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখতে আসেন। এ সময়ে শো বন্ধ রাখতে হলে দর্শক হারানোর পাশাপাশি ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সামনে নতুন করে প্রদর্শনীর সূচি সাজাতে হতে পারে বলেও জানান তিনি।
সিঙ্গেল স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহগুলোর চলমান প্রদর্শনী
তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে সিঙ্গেল স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহগুলোতে। মধুমিতা প্রেক্ষাগৃহের স্বত্বাধিকারী ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, এখনো তাঁদের জন্য এমন কোনো নির্দেশনা আসেনি। নাইট শোগুলো ভালোই চলছে, তাই আপাতত আগের নিয়মেই প্রদর্শনী চালু রয়েছে। তবে পরিস্থিতি বুঝে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল জানান, যেসব সিঙ্গেল স্ক্রিন চালু আছে, সেগুলো শপিং মলের বাইরে অবস্থিত। সরকারের নির্দেশনা মূলত বিপণিবিতানকে কেন্দ্র করে হওয়ায় সিঙ্গেল স্ক্রিন এখনো এর বাইরে রয়েছে। তাই নতুন নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত সেগুলোতে সন্ধ্যার পরও প্রদর্শনী চলবে।
এই পরিস্থিতিতে ঈদের সিনেমাগুলোর ভবিষ্যৎ প্রদর্শনী নিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়িক ক্ষতি ও দর্শক হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করলেও, সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলো তাদের নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। চলচ্চিত্র প্রযোজক, প্রদর্শক ও দর্শকদের মধ্যে এই বিভাজন চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যা সামনের দিনগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের দাবি রাখে।



