পাকিস্তানি রাজনীতিবিদের তীব্র প্রতিক্রিয়া: 'ধুরন্ধর ২' সিনেমায় অপমানের অভিযোগ
বলিউডের জনপ্রিয় পলিটিক্যাল থ্রিলার সিনেমা 'ধুরন্ধর ২' নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ নাবিল গাবোল সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, এই সিনেমায় রাকেশ বেদী অভিনীত 'জামীল জামালী' চরিত্রটি তার প্রতি অপমানজনকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছরের ১৮ মার্চ মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি বক্স অফিসে সাফল্য পেলেও এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
নাবিল গাবোলের তীব্র ক্ষোভ
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নাবিল গাবোল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, 'ধুরন্ধর ২' সিনেমায় জামীল জামালী চরিত্রটি বিশেষভাবে তাকে লক্ষ্য করেই তৈরি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ২০০৭ সালে যখন তিনি লিয়ারি এলাকার এমএনএ ছিলেন, সেই সময়কার তার রাজনৈতিক ভূমিকাকেই এই সিনেমায় বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে চরিত্রটিকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর এজেন্ট হিসেবে দেখানোয় তার মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গাবোলের বক্তব্য: 'ভারত যুদ্ধের ময়দানে পাকিস্তানের সঙ্গে লড়াই করতে সম্পূর্ণ অক্ষম বলেই তারা সিনেমার আশ্রয় নিয়েছে। তারা লিয়ারি এলাকাকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করেছে বটে, কিন্তু একজন কমেডিয়ান অভিনেতা রাকেশ বেদীর মাধ্যমে আমার চরিত্রটি হাস্যকরভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। এটি আমার প্রতি সরাসরি অপমান।'
রাকেশ বেদীর ব্যাখ্যা
অন্যদিকে, জামীল জামালী চরিত্রে অভিনয় করা বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা রাকেশ বেদী সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি ইঙ্গিত করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তার মতে, তিনি এই চরিত্রে সামগ্রিকভাবে পাকিস্তানি রাজনীতিবিদদের একটি সাধারণ চিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। বেদী জানান, তার অভিনয় কোনো ব্যক্তি বিশেষকে লক্ষ্য করে নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির রাজনৈতিক চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
পাল্টা সিনেমা বানানোর ঘোষণা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ট্রলিংয়ের শিকার হওয়া নাবিল গাবোল এখন কড়া জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন যে, 'ধুরন্ধর ২' সিনেমার পাল্টা জবাব দিতে তিনি নিজেই একটি সিনেমা প্রযোজনা করবেন। মজার বিষয় হলো, তিনি এই ছবিটির নাম 'ধুরন্ধর ৩' না দিয়ে 'লিয়ারি কা গব্বর' রাখতে চান।
গাবোল স্পষ্ট করে বলেন: 'আমি শুধু প্রতিবাদ করব না, বরং আমার নিজস্ব ভাষায় উত্তর দেব। আমার সিনেমায় সত্যিকারের লিয়ারির গল্প বলব, যেখানে কোনো বিকৃতি থাকবে না।'
পুরনো বিতর্কের ধারাবাহিকতা
উল্লেখ্য, এটি প্রথমবার নয় যে 'ধুরন্ধর' সিরিজের সিনেমা নিয়ে নাবিল গাবোল অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে যখন 'ধুরন্ধর'-এর প্রথম কিস্তি মুক্তি পায়, তখনও তিনি একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন। সে সময় পাকিস্তানি নেটিজেনরা এই সিনেমাকে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ এনেছিলেন।
নাবিল গাবোল তখন জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য তার নেই। তবে তিনি বরাবরই দাবি করে আসছেন যে, তার 'দাবাং' বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ইমেজকে সিনেমায় সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়নি। তার মতে, তাকে একটি ক্যারিকেচার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
দুই দেশে উত্তপ্ত বিতর্ক
আদিত্য ধরের পরিচালনায় তৈরি এই পলিটিক্যাল থ্রিলার সিনেমাটি নিয়ে বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তপ্ত বিতর্ক চলছে। ভারতীয় দর্শকরা সিনেমাটির প্লট ও অভিনয়ের প্রশংসা করলেও পাকিস্তানি ব্যবহারকারীরা একে দেশের প্রতি অপমানজনক হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক সিনেমাটির প্রতি আরও বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, যা বক্স অফিসে এর সাফল্যকে বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে উভয় দেশের শিল্পী ও নির্মাতাদের আরও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত বলে মনে করছেন অনেকেই।
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সিনেমা কেবল বিনোদনের মাধ্যমই নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক বিতর্কেরও একটি শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে। 'ধুরন্ধর ২' সিনেমা এখন শুধু বলিউডের সাফল্যের গল্পই নয়, বরং ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের জটিল দিকগুলোকেও সামনে নিয়ে এসেছে।



