রহস্যময় গ্রামে শিশু হারানো: রন আমিচির অদ্ভুত খেলার সমাপ্তি
শেরউইন উইলিয়ামস—একটি গ্রামের নাম, যা আমেরিকান বিখ্যাত রঙের কোম্পানির নামের সঙ্গে মিলে গেছে। এই অদ্ভুত নামের গ্রামে আমরা, বেলা এবং আমি, এসে পৌঁছাই ইউরোপ ভ্রমণের এক অচেনা ট্রেন স্টেশন থেকে। গ্রামটি টারকয়েজ নীল গাছপালা দিয়ে ঘেরা, যেখানে বাসিন্দারা সবাই যুদ্ধফেরত সৈনিক ও তাদের পরিবার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এই মানুষগুলো এখানে শান্তির জীবনযাপন করছে।
হঠাৎ হারানো শিশু ও উত্তেজনার সূচনা
একদিন বিকেলে, আমরা মাঠে বনভোজনের সময় দেখি একটি ছোট মেয়ে হামাগুড়ি দিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ দমকা হাওয়া ওঠে, এবং মেয়েটা চোখের আড়াল হয়ে যায়। বৃদ্ধের ডাক শুনি: "কামিলা...কামিলা..."। মেয়েটার নাম কামিলা, এবং সে নিখোঁজ হয়ে গেছে। আমরা বৃদ্ধের সঙ্গে যোগ দিই খোঁজার কাজে, কিন্তু কোথাও কামিলার সন্ধান মেলে না। গ্রামবাসীদের সন্দেহ, বাইরের কেউ তাকে চুরি করেছে।
আমার স্মৃতি বলে, শেষবার কামিলাকে দেখি বিকেল ৪:৪৫ মিনিটে, কিন্তু কেউ বিশ্বাস করে না। স্টেশনের দোকানের রসিদে ৪:২৩ মিনিটের ছাপ রয়েছে, যা সময় নিশ্চিত করে। সন্ধ্যায় মেয়রের অফিসে জরুরি সভা ডাকা হয়, যেখানে সিদ্ধান্ত হয়: বাইরের কাউকে আর গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হবে না, এবং গ্রামের বন্ধ কারখানা আবার চালু করা হবে কর্মসংস্থানের জন্য।
রন আমিচির রহস্যময় উপস্থিতি
খোঁজার সময় আমি বৃদ্ধ হেনরির সঙ্গে দেখা করি, যিনি পুকুরে ডুব দিচ্ছিলেন কামিলার সন্ধানে। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি রন আমিচি সম্পর্কে, একজন অদ্ভুত চরিত্র যার সঙ্গে আমার অতীত পরিচয় ছিল। হেনরি চমকে ওঠেন এবং জানান, রন আজ বিকেলেও গ্রামে এসেছিল। রন একজন দক্ষ ফ্রগম্যান, কিন্তু তার দ্বারা শিশুর ক্ষতি সম্ভব কি না, তা স্পষ্ট নয়।
আমরা হেনরির সঙ্গে বিশাল একটি পুকুরে ডুব দিই, যেখানে পুকুরের তলায় একটি ছোট খাট পাওয়া যায়, মশারির মতো কাপড়ে ঢাকা। ভেতরে কামিলার আকৃতির একটি পুতুল থাকে, মুখে অক্সিজেন নল গোঁজা। পুতুলের গলায় নেকলেস থেকে একটি চিরকুট বের হয়, যাতে লেখা: "তালগাছে ওঠো। ঈগলটা পঞ্চাশটি ডিম পেড়েছে। আমি ওর সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড থেকে আনা একেবারে অন্যগুলোর মতো একই রকম আরেকটি নকল ডিম রেখেছি।"
তালগাছের চ্যালেঞ্জ ও সমাধান
হেনরি তালগাছে ওঠে এবং সঠিক ডিম থেকে আরেকটি চিরকুট পায়: "তোমার ড্রয়িংরুমে দেখা হবে।" দ্রুত বাড়ির দিকে ছুটে আমরা দেখি, দরজা খোলা এবং ভেতরে কামিলা দোলনায় নিরাপদে ঘুমাচ্ছে। হেনরি রনকে জড়িয়ে ধরে বলেন, "আজ শোধবোধ হলো।" মেয়র পুলিশ ডাকতে চাইলে, হেনরি জানান, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, কারণ বাদী কেউ নেই।
গল্পটি শেষ হয় রহস্যের সমাধানে, যেখানে রন আমিচির অদ্ভুত খেলা শিশু কামিলাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনে, এবং গ্রামবাসীরা নতুন নীতির দিকে এগোয়। এই ঘটনা গ্রামের শান্তিপূর্ণ জীবনযাত্রায় একটি উত্তেজনাকর অধ্যায় যোগ করে, যুদ্ধফেরতদের শক্তির প্রতিফলন দেখায়।



