অগ্নেয় শিল্পীর প্রতিবাদ: আগারগাঁওয়ে হোবেকির 'স্টপ ওয়ার' সিরিজের দ্বিতীয় গ্রাফিতি
আগারগাঁওয়ে হোবেকির নতুন 'স্টপ ওয়ার' গ্রাফিতি

রহস্যময় শিল্পীর যুদ্ধবিরোধী বার্তা: আগারগাঁওয়ে 'স্টপ ওয়ার' সিরিজের নতুন গ্রাফিতি

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দর এলাকার একটি দেয়ালে আবারও দেখা মিলেছে রহস্যময় গেরিলা শিল্পী হোবেকির সৃষ্টি। এবারের শিল্পকর্মটি তার 'স্টপ ওয়ার' সিরিজের দ্বিতীয় অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, যা চলমান বৈশ্বিক সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতীকী বার্তা বহন করছে।

সুবোধের প্রতিরোধ: ক্ষেপণাস্ত্র থামানো খালি হাতে

স্টেনসিল কৌশলে তৈরি এই গ্রাফিতিতে দেখা যাচ্ছে, সুবোধ নামের চরিত্রটি তার খালি হাত দিয়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র থামানোর চেষ্টা করছেন। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সংক্রান্ত সংবাদে ব্যাপকভাবে দেখা যাচ্ছে। শিল্পীর এই উপস্থাপনা সাধারণ মানুষের মধ্যে যুদ্ধ ও ধ্বংস ঠেকানোর ক্ষমতা রয়েছে বলে ইঙ্গিত করে।

আর্টকন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা আরকে রিপন বলেন, "শিল্পীর এই কাজটি দেখিয়ে দিচ্ছে যে সাধারণ মানুষ চাইলে যুদ্ধ ও ধ্বংস ঠেকাতে পারে। এটি একটি শক্তিশালী শান্তির বার্তা, যা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

'স্টপ ওয়ার' সিরিজের ইতিহাস ও প্রাসঙ্গিকতা

এর আগে, 'স্টপ ওয়ার' সিরিজের প্রথম গ্রাফিতিটি দেখা গিয়েছিল ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে মিরপুর-১২-এর সিরামিক রোডের একটি দেয়ালে। সেই শিল্পকর্মটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছিল।

নতুন এই গ্রাফিতিটি বর্তমানে চলমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র/ইসরায়েল বনাম ইরান সংঘাতকে প্রতিফলিত করছে। সুবোধের শেষ উপস্থিতি ছিল গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর আগারগাঁওয়ের একটি দেয়ালে।

রহস্য ও নীরবতা: হোবেকির শিল্পী সত্তা

সেই সময় থেকে শিল্পী নীরবতা বজায় রেখেছেন, যা এই সিরিজের চারপাশের রহস্যময় আবহকে আরও শক্তিশালী করেছে। তার অজ্ঞাতপরিচয়তা শিল্পকর্মের গভীরতা ও ব্যাখ্যার জন্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুবোধের আগারগাঁওয়ে ফিরে আসার মাধ্যমে, হোবেকি দর্শকদের আবারও শিল্পের ভূমিকা নিয়ে চিন্তা করতে আহ্বান জানিয়েছেন। সংঘাতের মধ্যেও মানবতা কীভাবে বিজয়ী হতে পারে, তা এই শিল্পকর্মের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

এই গ্রাফিতি শুধু একটি শিল্পকর্ম নয়, বরং এটি একটি সামাজিক বক্তব্য, যা যুদ্ধের বিরুদ্ধে শান্তির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। শহুরে শিল্পের মাধ্যমে এমন বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সমাজে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।