জসীমউদদীনের কালজয়ী কবিতার চলচ্চিত্রায়ন: 'সোজন বাদিয়ার ঘাট'
বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ পল্লীকবি জসীমউদদীন আহমদের বিখ্যাত কবিতা 'সোজন বাদিয়ার ঘাট' অবলম্বনে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন খ্যাতনামা নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল। চলচ্চিত্রটির শুটিং ইতিমধ্যে গোপালগঞ্জের চান্দার বিল অঞ্চলে শুরু হয়েছে এবং নির্মাতার দাবি অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ষাট ভাগ শুটিং সম্পন্ন হয়েছে।
নির্মাণ দলের বিশদ বিবরণ
এই চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন তানভীর মোকাম্মেল নিজেই। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে রয়েছেন রাকিবুল হাসান, যিনি দৃশ্যায়নে বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। শিল্পনির্দেশক ও প্রধান সহকারী পরিচালকের ভূমিকায় রয়েছেন উত্তম গুহ।
অন্যদিকে, কাস্টিং ডিরেক্টর ও পোশাক পরিকল্পনার দায়িত্বে রয়েছেন চিত্রলেখা গুহ। সংগীত পরিচালনা করছেন সৈয়দ সাবাব আলী আরজু, যিনি চলচ্চিত্রের আবহকে সমৃদ্ধ করছেন। স্থিরচিত্র গ্রহণ ও বিহাইন্ড দ্য সিন শুটের দায়িত্বে রয়েছেন অপরাজিতা সঙ্গীতা ও সানু মাণিক।
প্রযোজনা ও অভিনয়শিল্পীদের তালিকা
চলচ্চিত্রটির সহ-প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন কবি জসীমউদদীনের কন্যা হাসনা জসীমউদদীন মওদুদ, যা এই প্রকল্পে পারিবারিক সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছে। দুই ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন বহু প্রতিভাবান শিল্পী।
- তনয় বিশ্বাস (সোজন)
- রাদিফা নারমিন (দুলী)
- দিহান (ছোট সোজন)
- শ্রেয়া বৈদ্য (ছোট দুলী)
- চিত্রলেখা গুহ, কাজী রাজু, শাহ আলম দুলাল, আহসানুল হক মিনু, জয়িতা মহলানবিশ, সংগীতা চৌধুরী, দেবাশীষ ঘোষ, শুভাশীষ ভৌমিক, উত্তম গুহ, সৈয়দ সাবাব আলী আরজু, টুনটুনি সোবহান, কাজী ইব্রাহীম, জহির বাচ্চু, ইকবাল আহমেদ, মেহেদি আল আমীন, মতিউর সুমন, স্মরণ সাহা, অমিতাভ রাজীব, জুবায়ের জাহিদ, আজম শেখ, সাইদুল হক, রেজাউল করিম রেজা, প্রশান্ত কর্মকার, অলোক বসু, দেবদাস সাহা, নব কুমার, মনোজ মণ্ডল, রিজভিনা মৌসুমী, পারভীন পারু, সুলতানা কানিজ, নাজমুন্নাহার লিজা, স্বপ্না বৈদ্য, শাহানা সিদ্দিকা, রিপা মণ্ডল, চৈতালী মণ্ডল, নির্ঝর চৌধুরী, কবির প্রমুখ।
মুক্তির সময়সূচি
নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল জানিয়েছেন, চলচ্চিত্রটির মুক্তির জন্য চলতি বছরের নভেম্বর মাস লক্ষ্য রাখা হয়েছে। শুটিংয়ের বর্তমান অগ্রগতি বিবেচনায়, এই সময়সীমা বাস্তবায়নযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
এই চলচ্চিত্রটি জসীমউদদীনের সাহিত্যকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এবং বাংলা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
