প্রাডা ফান্ডে বাংলাদেশের সিনেমা 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড' পেল ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা
ইতালির ফ্যাশন হাউস প্রাডার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ফন্ডাজিওনে প্রাডা থেকে তহবিল পেয়েছে বাংলাদেশের সিনেমা 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড'। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত তালিকায় দেখা যায়, এ বছর বাংলাদেশের এই সিনেমাসহ ১৪টি দেশের সিনেমার প্রকল্প এই অনুদান পাচ্ছে। সব কটি সিনেমা ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার সহায়তা পাবে, যার মধ্যে 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড' পাবে ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা বা ৮০ হাজার ইউরো। এর আগে এককভাবে দেশের কোনো সিনেমা এত বড় অঙ্কের সহায়তা পায়নি বলে জানা গেছে।
পরিচালক রুবাইয়াত হোসেনের প্রতিক্রিয়া
সিনেমাটির পরিচালক নারী নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথম আলোকে জানান, বেশ কয়েক দিন আগেই তিনি শুনেছেন পোস্ট-প্রোডাকশন প্রকল্প হিসেবে তাঁর সিনেমাটি তহবিল সহায়তা পাচ্ছে। তিনি বলেন, 'এটা আমার জন্য অনেক বড় খবর। আমার সিনেমাটি হরর ঘরানার। অনেক ভিডিও ইফেক্টের কাজ রয়েছে। সেগুলো এ সময়ে পেশাগতভাবে করার জন্য অনেক অর্থ দরকার। সেখানে এই তহবিল আমাদের নতুন আশা দেখাচ্ছে।' রুবাইয়াত বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন এবং পর্তুগালের লিসবনে আবহসংগীতসহ কিছু কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সিনেমার বিষয়বস্তু ও অভিনয়শিল্পী
'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড' সিনেমাটি বিয়ে, মেকআপ ও একটি বিউটি পারলারের গল্প নিয়ে তৈরি, যেখানে সামাজিক বার্তার পাশাপাশি হরর ঘরানা যুক্ত হয়েছে। পরিচালক জানান, এটি তাঁর প্রথম হরর সিনেমা, যা তাঁর শৈশবে পারলারে শোনা গল্প থেকে অনুপ্রাণিত। সিনেমায় অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, সুনেরাহ বিনতে কামাল ও রিকিতা নন্দিনী শিমু। প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে জাইনীন করিমকে, যার এবারই সিনেমায় অভিষেক হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ফন্ডাজিওনে প্রাডা ফিল্ম ফান্ড প্রথমবারের মতো বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের মাধ্যমে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে অর্থায়ন করছে। নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৯টি নির্মাণাধীন সিনেমা রয়েছে, এবং বাংলাদেশের সিনেমাটি পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে এমন তালিকায় স্থান পেয়েছে। রুবাইয়াত হোসেন বলেন, 'আমি দেশের প্রচলিত গল্প নিয়ে কাজ করতে চাই, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাহিদা রয়েছে। বিভিন্ন দেশের প্রযোজক যুক্ত হচ্ছেন, ডিস্ট্রিবিউটর আসছে।' তিনি সিনেমাটি নিয়ে শীর্ষ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যেতে চান।
এর আগে এই সিনেমা জার্মান ওয়ার্ল্ড সিনেমা ফান্ড, পর্তুগালের ফিল্ম ইনস্টিটিউটসহ বেশ কিছু জায়গা থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। পর্তুগাল, নরওয়ে, জার্মানি, ফ্রান্স ও বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় সিনেমাটির শুটিং শেষ হয়েছে। এবারের তহবিল প্রাপ্তি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ রুবাইয়াত বিখ্যাত নির্মাতাদের সঙ্গে এই তহবিল পাচ্ছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন কান চলচ্চিত্র উৎসবের স্বর্ণপাম জয়ী থাই নির্মাতা আপিচাতপং দারাসেথাকুল এবং বার্লিন থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত ম্যাক্সিকান পরিচালক তাতিয়ানা হুয়েজো।
