পাঁচ বছরের বিরতি কাটিয়ে নতুন কাজ নিয়ে ফিরেছেন আলোচিত নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ। বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সিরিজকেন্দ্রিক উৎসব ‘সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল’-এর ‘উইমেন ইন সিরিজ’ বিভাগে বিশ্ব প্রিমিয়ারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে তাঁর মিনি সিরিজ ‘অ্যানি’। নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি। আগামী ৯ জুন জার্মানির কোলনে অনুষ্ঠেয় এই উৎসবে সিরিজটির প্রদর্শনী হবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনা
সিরিজের অন্যতম প্রযোজক এহসানুল হক মনে করেন, এই অর্জন দেশের নির্মাতাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। তিনি বলেন, ‘ফেস্টিভ্যালের মাধ্যমেও একটি সিরিজকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। “অ্যানি”র মাধ্যমে আমরা সেই সম্ভাবনার একটি উদাহরণ তৈরি করতে চেয়েছি।’
‘সেরিয়েনক্যাম্প’ মূলত সিরিজের জন্য নিবেদিত একটি এক্সক্লুসিভ উৎসব। সিরিজকেন্দ্রিক ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী এই উৎসবটি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নির্মাতা, প্রযোজক ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলা। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচিত সিরিজ প্রদর্শনের পাশাপাশি শিল্পসংশ্লিষ্ট আলোচনা, কর্মশালা ও নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করে এই উৎসব।
‘অ্যানি’র গল্প
‘অ্যানি’ ডিস্টোপিয়া ঘরানার একটি সিরিজ। ছোট এক শহরের নার্স অ্যানি একা হাতে পাঁচ ভাইবোনকে বড় করার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে পৃথিবী এক অদ্ভুত অসুখে আক্রান্ত হয়। এই অসুখে সংক্রমিত পুরুষেরা নারীদের প্রতি এক নিয়ন্ত্রণহীন ঘৃণায় উন্মত্ত হয়ে ওঠে। এই ‘হেইট প্যান্ডেমিক’-এর মধ্যেই এক রাতে অ্যানির ওপর নৃশংস হামলা চালায় এক মুখোশধারী। এই সহিংসতা অ্যানিকে চিরতরে বদলে দেয়। নিজের ভেতরে ও চারপাশে জমে থাকা সব ঘৃণার সঙ্গে লড়তে লড়তে একসময় সে প্রতিশোধ ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না। অ্যানির মতো জটিল একটি চরিত্রের চোখ দিয়ে দেখা গল্পটি নির্মাণধারায় একটি ‘চেম্বার ড্রামা’। সাদের অন্য সব কাজের মতোই এটি নারী-পুরুষ সম্পর্কের ভেতরের অবিশ্বাস, অসমতা আর সহিংসতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
অভিনয় ও কলাকুশলী
সিরিজের কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিনেতা ইয়াশ রোহান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘একজন অভিনেতার জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন কোনো একটি কাজ এবং একজন পরিচালক শুধু অভিনেতা হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও আপনাকে ভেতর থেকে বদলে দেয়। “অ্যানি” ছিল আমার জীবনের তেমনই একটি অভিজ্ঞতা।’
সিরিজে আরও অভিনয় করেছেন সাইমন সাদিক, সারিকা সাবরিন, ফারহানা মিঠু। ‘মেট্রোভিডিও’, ‘ক্যাটালগ’, ‘জিরেল’ ও ‘অডেশাস অরিজিনালস’–এর ব্যানারে সিরিজটি প্রযোজনা করেছেন এহসানুল হক ও আলী আফজাল। সহপ্রযোজক হিসেবে রয়েছেন শিহাব নূরুন নবী, তুহিন তামিজুল, তানভীর হোসেন, জোহান চ্যাপেলান, সাইফুল ইসলাম ও রায়হান সিকদার। নির্বাহী প্রযোজক অপূর্বা বকশি। সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন তুহিন তামিজুল, সাউন্ড ডিজাইন ও মিক্সিংয়ে শৈব তালুকদার, কালারিস্ট চিন্ময় রায়, ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর সিয়াম সামস্, অ্যাসোসিয়েট প্রোডিউসার মাহমুদুল হাসান সজীব এবং কাস্টিং ডিরেক্টর ইয়াসির আল হক।
আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের আগের কাজ
২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ ছিল আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের প্রথম চলচ্চিত্র। সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা পরিচালক ও সেরা অভিনেতার পুরস্কার জেতা ছবিটি রটারডাম ও লোকার্নোর মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসবে দেখানো হয়েছে। এরপর ২০২১ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ‘আঁ সার্তে রিগা’য় জায়গা করে নেয় তাঁর দ্বিতীয় ছবি ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। কান চলচ্চিত্র উৎসবে অফিশিয়াল সিলেকশনে এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম কোনো চলচ্চিত্র। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে ১৫টির বেশি আন্তর্জাতিক উৎসবে জায়গা করে নিয়েছিল সাদের এই নির্মাণ।



