শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’ চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেশন সনদ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড। পিআইডির বরাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তথ্যটি নিশ্চিত হয়েছে বাংলাট্রিবিউন।
স্থগিতাদেশের কারণ
স্থগিতাদেশে বলা হয়েছে, চলচ্চিত্রটির সঙ্গে সার্টিফিকেশনবিহীন গান ও দৃশ্য সংযোজন করে প্রদর্শন করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত কপিতে ধূমপান ও মাদক সেবনের সতর্কবার্তা টেম্পারিং করে মুদ্রণযোগ্য ফন্টে প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে। এসব কারণে বোর্ড ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’ নামের পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেশন সনদ (এলএল নং ১০/২০২৬, তারিখ: ১৬-০৩-২০২৬) স্থগিত করেছে।
অভিযোগের বিবরণ
অভিযোগে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, একক গান ‘তোমাকে ছাড়া’ সিরিজের গান এবং ভারতের একটি মরুভূমিতে রামদা দিয়ে নির্বিচারে মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করার বিভৎস দৃশ্য প্রদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি, বোর্ড কর্তৃক পূর্বে কর্তনকৃত দৃশ্য—চাপাতি দিয়ে একজনের হাত কর্তন, গলার রগ কেটে ফেলার দৃশ্য এবং মেয়েদের অশালীন ও অরুচিকর পোশাক ও অঙ্গভঙ্গির দৃশ্য—পুনরায় সংযোজন করাই এই স্থগিতাদেশের মূল কারণ।
নির্মাতার বক্তব্য
এ প্রসঙ্গে নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ বাংলাট্রিবিউনকে জানান, তিনি এ সংক্রান্ত কোনো নোটিশ এখনও হাতে পাননি। তবে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সেন্সর বোর্ড থেকে একটি নোটিশ পেয়েছিলেন তারা। সে প্রেক্ষিতে তিন কর্মদিবসের মধ্যে যথাযথ জবাবও দেওয়া হয়েছে।
সেন্সরবিহীন অশালীন দৃশ্য ও অন্যান্য অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চলচ্চিত্রটি যখন সিনেমা হলে চলছিল, ভুলক্রমে এর ইন্ডিয়ান ভার্সন ও ওটিটি ভার্সন সিনেমা হলে প্রদর্শিত হয়। যখন সেন্সর বোর্ড থেকে নোটিশ আসে, তখন আমাদের ছবিটি আর হলে চলছিল না। আমরা জানিয়েছি, সেন্সরপ্রাপ্ত সঠিক ভার্সনটি সংশ্লিষ্ট হলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বা ভবিষ্যতে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সঠিক কপিই সরবরাহ করা হবে। এ নিয়ে আমরা কাজও করছিলাম। এর মধ্যেই এমন আদেশ এলো, যা আমরা প্রথমে গণমাধ্যম থেকেই জানতে পারলাম।”
নির্মাতা আরও জানান, স্থগিতাদেশের নোটিশ হাতে পাওয়ার পরই তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
চলচ্চিত্র সম্পর্কে
আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত এবং শিরিন সুলতানা প্রযোজিত এই মারপিটধর্মী রোমাঞ্চকর চলচ্চিত্রটি গত ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সারা দেশে মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটিতে আরও অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিন ও জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু প্রমুখ।



