ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’-এ স্থান পেয়েছে তরুণ সংগীতশিল্পী অংকন কুমারের গান। এই গানটিতে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি নিজেই লিখেছেন কথা এবং সুরও দিয়েছেন। গত ২১ মার্চ ইউটিউবে গানটির ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে ভিডিওটি প্রায় ১০ লাখ বার দেখা হয়েছে।
শ্রোতাদের ভালোবাসায় ভাসছে গান
প্রেমিক-প্রেমিকার মনের আকুতি দরদভরা কণ্ঠে ফুটিয়ে তুলেছেন অংকন। ইউটিউবে এক শ্রোতা মন্তব্য করে বলেন, ‘মন থেকে কাউকে ভালোবাসলে এই গানটা শোনার পর শুধু তার চেহারা চোখের সামনে চলে আসবেই।’ আরেক শ্রোতা লেখেন, ‘ছেলেটা সব শিল্পীর চেয়ে আলাদা এবং তার লেখা, কণ্ঠের দরদ ও উচ্চারণ একদম আলাদা।’
গানটি নিজের জন্য তৈরি করেননি
মজার বিষয় হলো, গানটি অংকন নিজের জন্য তৈরি করেননি। মূলত সংগীত প্রযোজক জাহিদ নিরবের জন্য এটি তৈরি করেছিলেন তিনি। সুর করার সময়ও জাহিদ নিরবের কথা মাথায় রেখেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাহিদ নিরব নিজে গানটি না গেয়ে অংকনকে গাইতে অনুরোধ করেন। নিরবের মতে, অংকন গাইলে গানটি আরও বেশি সুন্দর লাগবে। নিরবের সেই অনুরোধেই গানটিতে কণ্ঠ দেন অংকন।
পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ
গানটি তৈরির সময়ই পরিচালক রায়হান রাফীর টিমের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়। তখন রাফীর সিনেমার শুটিং চলছিল। শেষ পর্যন্ত গানটি তাঁর সিনেমায় যুক্ত করা হয়।
‘উপ’ থেকে ‘বড়াই করে’
মৌলিক গান ‘উপ’ দিয়ে প্রথম আলোচনায় আসেন অংকন। ২০২২ সালে হাতিরপুল সেশনসে গানটি প্রকাশের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এই গানটি তাঁকে তারকাখ্যাতি এনে দেয়। এরপর কোক স্টুডিও বাংলায় ‘লং ডিসট্যান্স লাভ’ গানটিও ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
গানের সংখ্যা কম কেন?
বছর তিন-চারেকের ক্যারিয়ারে পাঁচ-ছয়টির মতো মৌলিক গান প্রকাশ করেছেন অংকন। বেশির ভাগই হিট। সব গানে ঘুরেফিরে প্রেমের আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। তবে তিনি গানকে পুরোপুরি ‘রোমান্টিক’ বলতে নারাজ। অংকনের ভাষ্য, রোমান্টিক সম্পর্কের আড়ালে যে জটিল অনুভূতি ও আবেগগুলো থাকে, যা সাধারণত মানুষের সামনে আসে না, সেগুলোই তিনি গানে তুলে ধরতে পছন্দ করেন। এর মধ্যে দূরবর্তী প্রেম আছে, কাউকে না পাওয়ার বেদনা কিংবা একতরফা প্রেমও আছে। গানের আবেগের সঙ্গে বাস্তবতার মেলবন্ধন ঘটাতে চান তিনি।
গানের সংখ্যা কম কেন—জানতে চাইলে অংকন জানান, প্রচুর গান প্রকাশের চেয়ে তিনি গানের মানের ওপর জোর দেন। তাঁর লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানের সাউন্ড বা ফ্রিকোয়েন্সি আউটপুট তৈরি করা। অংকন কুমার মনে করেন, শিল্পী হিসেবে মানুষের হৃদয়ে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হলো ভালো মানের কাজ। তাঁর ভাষ্য, সংগীত অনেক সময় তাঁকে প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে বাঁচিয়েছে এবং তিনি মূলত আনন্দের সঙ্গেই গান তৈরি করতে ভালোবাসেন।
গানের বাইরে
সংগীতের বাইরে নিয়মিত ফুটবল খেলেন অংকন। মিডফিল্ডার ও স্ট্রাইকার হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। অবসরে উপন্যাস, কবিতা আর কমিকস পড়তে ভালোবাসেন। এছাড়া অবসরে অ্যাকশন গেম খেলেন এবং অ্যানিমেশন মুভি দেখেন।
ঢাকাতেই অংকন কুমারের বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা। পারিবারিকভাবেই তাঁর সংগীতের হাতেখড়ি। পরিবারের সদস্যরা গানের সঙ্গে যুক্ত। ছোটবেলা থেকেই গান শিখেছেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ক্যারিয়ারে প্রথম একক অ্যালবাম নিয়ে কাজ করছেন অংকন। অ্যালবামে চার থেকে পাঁচটি মৌলিক গান থাকবে। পাশাপাশি একটি যৌথ অ্যালবামের কাজও চলছে, যাতে পপ ধারার গানের আধিক্য থাকবে। এ ছাড়া বেশ কিছু প্রজেক্ট বর্তমানে হাতে রয়েছে, যা এখনই তিনি প্রকাশ করতে চান না।



