মিমোর অকাল মৃত্যুতে নাট্যাঙ্গনে শোক, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি
মিমোর অকাল মৃত্যুতে নাট্যাঙ্গনে শোক, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি

নাট্যকর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর অকাল মৃত্যুতে নাট্যাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রিয় সহকর্মীর এমন মৃত্যু মানতে পারছেন না কেউই। রবিবার (২৬ এপ্রিল) দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তার পরিবার। এ সময় তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ময়নাতদন্তের ফলাফল

এ বিষয়ে বাংলাট্রিবিউনকে সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক আশিক রেহমান লিওন। তিনি বলেন, “ময়নাতদন্ত শেষে জানানো হয়েছে, এটি আত্মহত্যা ছিল। তার মরদেহ জন্মস্থান মাদারীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিবারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরাও একটি বাসে করে মিমোর মরদেহের সঙ্গে রওনা হয়েছেন।”

শোক ও প্রতিবাদ

অকস্মাৎ এ মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু ও সহকর্মীরা শোক ও প্রতিবাদ—দুটিই জানাচ্ছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ। আনুষ্ঠানিকভাবে বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় বলা হয়েছে, মেধাবী শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিনের আকস্মিক মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি ছিলেন প্রাণোচ্ছল ও বলিষ্ঠ স্বভাবের শিক্ষার্থী। তার এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্তম্ভিত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শোকবার্তায় আরও বলা হয়, মাহজাবিনের মতো একজন শিক্ষার্থী এমন কোনো চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তা কারও বিশ্বাসের অতীত। বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে। বিভাগের পক্ষ থেকে মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে। মুনিরা মাহজাবিনের মৃত্যুতে সহপাঠীদের মাঝে গভীর শোক ও বিষণ্ণতা বিরাজ করছে।

সহকর্মীদের প্রতিক্রিয়া

মৃত্যুর কিছুদিন আগেই নাট্যদল তীরন্দাজ রেপার্টরি থেকে ‘শুভঙ্কর হাত ধরতে চেয়েছিল’ নাটকের প্রযোজনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন মিমো। নাট্যদলের কর্ণধার ও শিল্পকলা একাডেমির চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক সুমন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “ওর মতো শক্ত মেয়ে আমি কখনো দেখিনি। এত শক্ত হাতে এত অল্প সময়ে সে আমাদের নাটকটি তুলে দিয়েছিল। ভাবতেই পারি না, তার পক্ষে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে। আমি যে মিমোকে দেখেছি, জেনেছি—সে কখনো হেরে যাওয়ার মতো মেয়ে না। অথচ অল্প বয়সে ও জীবনযুদ্ধে হেরে গেল, বা ওকে জোর করে পরাজিত করা হলো।”

অভিনেত্রী দিলরুবা দোয়েল লিখেছেন, “মুনিরা মাহজাবিন মিমো, একটা ফোন করাই যেত বাবু। আমরা কমবেশি সবাই মানসিক সমস্যায় আছি এবং দিন দিন একা হয়ে যাচ্ছি।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নাট্যকর্মী সামিনা লুৎফা লিখেছেন, “অবিশ্বাস্য, মুনিরা মাহজাবিন মিমো! সেদিনও ফোনে কথা হলো। সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

প্রচ্ছদশিল্পী চারু পিন্টু লিখেছেন, “মুনিরা মাহজাবিন মিমো, অনন্তলোকে ভালো থাকো। সুবিচার হোক।”

নাট্যকর্মী নাদিরা আনজুম মিমি লিখেছেন, “মিমো, এইভাবে চলে গেলি কেন আপু! সবকিছুর একটা সমাধান থাকে। ঘুম থেকে উঠে এমন কিছু কেন শুনতে হলো? এটা কেন শুধুমাত্র একটা দুঃস্বপ্ন না? কেন ঘুম ভাঙার পর সবকিছু যেমন ঠিক লাগে, তেমন ঠিক লাগছে না। বিশ্বাস হচ্ছে না, একদমই বিশ্বাস হচ্ছে না।”

চিরকুট ও পুলিশি তদন্ত

মৃত্যুর আগে একটি চিরকুট রেখে গিয়েছিলেন মিমো। সেখানে তার শিক্ষক ও সহপাঠীর নাম উল্লেখ ছিল। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।