ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা বন্ধে ক্ষোভ ফারুকীর, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার দাবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা বন্ধে ক্ষোভ ফারুকীর, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দাবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা প্রদর্শনী বন্ধ বা চলচ্চিত্র নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কারও কাছে সিনেমা পছন্দ না হলে তিনি তা না দেখতে পারেন। কিন্তু নিজের পছন্দ বা অপছন্দ অন্যের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

ফারুকীর ফেসবুক পোস্টে কী বললেন?

পোস্টে ফারুকী লেখেন, “ব্রাহ্মনবাড়িয়ার ঘটনা অনেক দেরিতে জানলাম। যাই হোক এটা একটা ফ্রিন্জ ইলেমেন্ট হইলেও এসব প্রশ্রয় দেয়া উচিত না। কারও কাছে সিনেমা হারাম মনে হইলে সে দেখবে না। কিন্তু মুশকিল হইলো তার অপছন্দ যখন সে অন্যের উপর চাপাইয়া বলতে চায় ‘তুমিও সিনেমা দেখতে পারবা না’!”

দেশের ধর্মীয় পরিমণ্ডলের একাংশের আচরণ নিয়ে সমালোচনা করে এই নির্মাতা বলেন, “বাংলাদেশের ধর্মীয় ক‍্যাম্পের কিছু মানুষ এইরকম উদ্ভট আচরণ করার মধ‍্য দিয়ে দেশকে বিতর্কিত করে, এমন কি তার ধর্মকেও বিতর্কিত করে। টেলিভিশন ছবিতে এই জিনিস ডিল করছিলাম ১৩ বছর আগে। ১৩ বছর পরে আইসা এই জিনিস শুনলে বিরক্ত লাগে।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংস্কৃতি মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই ঘটনা নিয়ে বর্তমান সংস্কৃতি মন্ত্রীর কাছে নেটিজেনদের ব্যাখ্যা চাওয়ার বিষয়টিকেও ইতিবাচক ও যথাযথ হিসেবে দেখছেন ফারুকী। তবে ক্ষমতার বণ্টন বা আইনি কাঠামোর তথ্য উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “বাই দ‍্য ওয়ে, এটার জন‍্য সংস্কৃতি মন্ত্রীর কাছে সবাই ব‍্যাখ‍্যা চাইছে। বেচারা নিতাই বাবুর হাতে যে সিনেমা নাই এটা অনেক ইনফর্মড লোকও জানে না। তবে তারা কমন সেন্স থেকে যে কালচারাল মিনিস্ট্রিকে অ‍্যাড্রেস করছে— এটা যথাযথ।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অ্যালোকেশন অব বিজনেস সংশোধনের তাগিদ

সিনেমা ও বিনোদন মাধ্যমকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখার প্রচলিত নিয়মের পরিবর্তন চেয়ে ফারুকী তার পোস্টে ‘অ্যালোকেশন অব বিজনেস’ সংশোধনের তাগিদ দেন। তিনি লেখেন, “এর আগেও বলছি, আমার নোট টু সাকসেসরেও বলছি, সিনেমা-ওটিটি-বিনোদন টিভি কোনোমতেই তথ‍্যে থাকা উচিত না। ইন্ডিয়া বাদে দুনিয়ার বেশিরভাগ দেশেই এটা কালচারেরই পার্ট। দ্রুত অ‍্যালোকেশন অব বিজনেসে পরিবর্তন আনা উচিত।”

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে চলচ্চিত্র ও বিনোদন বিষয়ক কার্যক্রম তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। ফারুকীর মতে, এটিকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনা হলে চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ ও সুরক্ষা আরও কার্যকরভাবে সম্ভব হবে। তিনি মনে করেন, ভারত ছাড়া বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই এই দায়িত্ব সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের হাতে ন্যস্ত থাকে।