কয়েক বছর ধরে সল্টলেক স্টেডিয়ামের পরিচয় হয়ে উঠেছিল একটি বিতর্কিত ভাস্কর্য, যার মূল অবয়বে ছিল কোমর থেকে কাটা দুটি পা এবং তার ওপর একটি ফুটবল। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব নকশায় তৈরি এই ভাস্কর্যটি নিয়ে জনমনে ছিল চরম মতভেদ; অনেকেই এটিকে ‘চোখের বালি’ বা ‘কদর্য’ বলে আখ্যা দিতেন। অবশেষে শনিবার (২৩ মে) ভাস্কর্যটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই এটি সরিয়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক।
ভাস্কর্য অপসারণের ঘটনা
শনিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা সল্টলেক স্টেডিয়ামের ভিভিআইপি গেটের কাছে গিয়ে চমকে ওঠেন। তারা দেখেন, সেখানে থাকা সেই অদ্ভুত ভাস্কর্যটি উধাও। কিছুদিন আগেই এই স্টেডিয়ামে খেলে গেছেন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। ২০১৭ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ ফিফা বিশ্বকাপের আগে মমতার মস্তিস্কপ্রসূত এই কাঠামোটি স্থাপন করা হয়েছিল, যাতে আগের তৃণমূল (টিএমসি) সরকারের সিগনেচার প্রতীক ‘বিশ্ব বাংলা’র লোগোও যুক্ত ছিল।
জনমত ও প্রতিক্রিয়া
উদ্বোধনের পর থেকেই কাঠামোটির অদ্ভূত নকশা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। তা সত্ত্বেও, ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের ঐতিহ্যবাহী ডার্বি ম্যাচ এবং আন্তর্জাতিক তারকাদের সাক্ষী থাকা এই স্টেডিয়ামের একটি চেনা পরিচয় হয়ে উঠেছিল এটি। ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলার পর বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ টুইট করে বলেন, সল্টলেক স্টেডিয়ামের সামনের সেই কুৎসিত জিনিসটার কথা মনে আছে? প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবশেষে ওটা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরদিনই শুভেন্দু অধিকারী এটি সরিয়ে ফেলার ঘোষণা দিয়েছিলেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে সেই কথারই পুনরাবৃত্তি করেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই ‘কদর্য’ কাঠামোটি এত ঐতিহ্যবাহী একটি স্টেডিয়ামের নান্দনিকতার সঙ্গে একেবারেই মানানসই নয়।
উল্লেখ্য গত ডিসেম্বরে মেসির ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’ -এর সময় অব্যবস্থাপনার কারণে সল্টলেক স্টেডিয়ামে ব্যাপক ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ওই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য ফুটবল সমর্থকরা সরাসরি তৎকালীন তৃণমূল সরকারকেই দায়ী করেছিলেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে



