বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খানের স্মৃতিতে আজও তার বাবা কিংবদন্তি ক্রিকেটার মনসুর আলি খান পতৌদি ‘রিয়েল হিরো’। সম্প্রতি কলকাতার বিরলা সভাঘরে এক স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি জানান, খেলার আগে চোখ পরীক্ষা করার নিয়ম থাকলেও তার বাবা তা মানতে রাজি হননি।
অনুষ্ঠানের পরিবেশনা
সাইফ আলি খান যখন বিরলা সভাঘরে পা রাখেন, তখন মঞ্চে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন সাবেক ক্রিকেটার ইয়ান বথাম। প্রথম সারিতে বসে সাইফ মনোযোগ দিয়ে বথামের বক্তব্য শোনেন। বথামের রসিকতায় তার ঠোঁটেও হাসি ফোটে। পরে নিজের বক্তব্যে সাইফ বলেন, ‘বাবা মাঠে টাইগার ছিলেন, কিন্তু বাড়িতে ছিলেন স্নেহশীল। তিনি আমাদের কখনো অযথা শাসন করেননি, বরং স্বাধীনভাবে বড় হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।’
বাবার চোখের সমস্যা ও সাহসিকতা
সাইফ আলি খান জানান, ভারতের সম্ভবত একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তার বাবা খেলতে গিয়ে চোখের দৃষ্টি হারিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার পর চিকিৎসা করিয়ে বাড়ি ফিরলেও তিনি ভালো দেখতে পাননি। চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, বিশেষ লেন্স পরলে অনেকটাই দেখতে পাবেন, কিন্তু তা সময়সাপেক্ষ। তবুও তিনি দমে যাননি। সেই অবস্থাতেই ব্যাট হাতে মাঠে নামেন। প্রথম দুই-তিনটি খেলায় স্বল্প রান করলেও পরে অভ্যস্ত হয়ে আবার বিধ্বংসী হন।
সাইফ আরও বলেন, ‘খেলার আগে খেলোয়াড়দের চোখ পরীক্ষা করা নিয়ম। কিন্তু বাবা রাজি হননি। তিনি জানতেন, চোখ পরীক্ষা করালে খেলতে পারবেন না, কারণ বিশেষ লেন্স ছাড়া তিনি কিছুই দেখতে পেতেন না। কিন্তু নিজেকে তিনি কখনো অসহায় ভাবেননি, কারও কাছ থেকে বাড়তি সুযোগ নেননি। কেউ তাকে প্রতিবন্ধী বললে তিনি আপত্তি জানাতেন।’
পারিবারিক ক্রিকেটীয় আবহ
সাইফ আলি খানের বাড়িতে সবসময় ক্রিকেটীয় আবহ বিরাজ করত। সারাক্ষণ খেলা নিয়ে কথা হতো। বাড়ির মালিক থেকে মালি— সবার মুখে একই কথা। সেই পরিবারের ছেলে সাইফ নিজেও বাবার গল্প বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি উল্লেখ করেন, তার মা শর্মিলা ঠাকুরের ওপর সংসারের ভার ছেড়ে দিয়েছিলেন বাবা, নিজে কখনো ঘরোয়া বিষয়ে মাথা ঘামাতেন না।



