ত্রিশালে ভাঙা নজরুল ভাস্কর্য ১১ মাস পরও অপরিবর্তিত
ত্রিশালে ভাঙা নজরুল ভাস্কর্য ১১ মাস পরও অপরিবর্তিত

ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির ‘অঞ্জলি লহ মোর’ গানের ভিত্তিতে নির্মিত ভাস্কর্যটি গত ১১ মাস ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। গত সোমবার দুপুরে ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, ভাস্কর্যটি অর্ধেক ভাঙা অবস্থায় রয়েছে।

ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনা

গত বছরের পবিত্র ঈদুল আজহায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি চলাকালে ভাস্কর্যটি ভাঙা শুরু হয়। প্রতিবাদের মুখে ভাঙা বন্ধ রাখা হয় এবং বিষয়টি সমাধানে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু ঘটনার পর ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ভাস্কর্যটি সংস্কার করা হয়নি।

শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া

দুজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘ভাস্কর্যটি এক বছর ধরে এমন অবস্থায় পড়ে আছে। অর্ধেক ভাঙা ভাস্কর্যটি এখন অসুন্দরের কারণ। দ্রুত এটি সংস্কার করে আগের রূপে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।’ ক্যাম্পাসে দেখা যায়, ভাস্কর্যটির পাশে দাঁড়িয়ে পাঁচজন শিক্ষার্থী কথা বলছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান বলেন, ‘অঞ্জলি লহ মোর’ ভাস্কর্য তৈরির পর ভাঙার আগমুহূর্ত পর্যন্ত এর সৌন্দর্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন ছিল না। ছুটির সময়ে প্রশাসনের অনুমতিতে ভাস্কর্যটি ভাঙা শুরু হয়। আমরা চাই নজরুল সৃষ্টিকর্মের প্রেরণায় নির্মিত ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপিত হোক এবং ভাঙার নীলনকশাকারীদের আইনের আওতায় আনা হোক।’

ভাস্কর্যের ইতিহাস

বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ ভবনের সামনের পুকুরের সৌন্দর্য বাড়াতে ‘অঞ্জলি লহ মোর’ ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়। ভাস্কর মনিন্দ্র পাল এটি নির্মাণ করেছিলেন। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া কাজ অক্টোবরে শেষ হয়। গত বছর ভাস্কর্যটি ভাঙা শুরু হলে প্রতিবাদের মুখে কাজ বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।

কমিটির সুপারিশ

শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকীকে আহ্বায়ক ও উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. মাহবুবুল ইসলামকে সদস্যসচিব করে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তাদের ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের ডিপিডি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ভাস্কর্যটির বিষয়ে কমিটি প্রায় এক মাস আগে সুপারিশ জমা দিয়েছে। আগের ভাস্কর্যটি সংস্কারের পাশাপাশি নতুন কিছু বিষয় যুক্ত করে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা উন্নয়ন ও ওয়ার্কস কমিটির সভা করে সুপারিশ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘ভাস্কর্যটির বিষয়ে কমিটির সুপারিশে একটি নকশা দেওয়া হয়েছে। এখন সেই অনুযায়ী কাজ হবে।’