মৃত্যুঞ্জয় ডুড আমাদের এলাকার আসল প্রধান চরিত্র ছিল, কিন্তু তার জীবনটা ছিল পুরো বিশৃঙ্খল। এত বড় সম্পত্তি, অথচ লোকটা ছিল একদম একাকী। অন্যদিকে তার বিচারমূলক আত্মীয়রা ছিল প্রত্যেকে সাপের মতো; সে কখন প্রস্থান করবে আর তারা তার সব দখল করবে, এই ছিল তাদের প্রধান পরিকল্পনা। সত্যি বলতে, তারা ছিল সম্পূর্ণ বিষাক্ত।
অসুস্থতা ও অপ্রত্যাশিত সেবা
একদিন খবর পেলাম, মৃত্যুঞ্জয় ডুড ভয়ানক অসুস্থ, একেবারে শেষ পর্যায়ে। আমি তার বাড়িতে গিয়ে পুরো হতবাক! দেখি একটি মেয়ে তাকে প্রাণপণে সেবা করছে। সে আমাদের বিলাসী। ঈশ্বরের কসম, মেয়েটি যে পর্যায়ের যত্ন দিচ্ছিল, তা এখনকার দুনিয়ায় একেবারে অবাস্তব। সে যেন মৃত্যুঞ্জয়দার জন্য আক্ষরিক অর্থে নিরাময় অমৃত হয়ে এসেছিল। বিলাসী সত্যিই অসাধারণ।
সমাজের প্রতিক্রিয়া
কিন্তু আমাদের পাড়ার তথাকথিত অভিজাত মুরব্বিরা ছিল একেকটি লাল পতাকা। তারা যখন শুনল যে বিলাসী নিম্ন জাতের হয়ে মৃত্যুঞ্জয় ডুডের জন্য রান্না করছে, তাদের অহংকারে ঘা লাগল। তারা দল বেঁধে গিয়ে বিলাসীর ওপর যা হয়রানি চালাল, তা ছিল একেবারে দৃষ্টিকটু: আপনি সমাজের পুরনো নিয়ম ভাঙছেন আর পুরো পাড়া আপনাকে বর্জন করতে আসছে।
প্রেমের জয় ও পরিণতি
বিলাসীকে ওরা বাড়ি থেকে বের করে দিল, কিন্তু মৃত্যুঞ্জয় ডুড ছিল বিলাসীর প্রতি পুরো অনুগত। সে সব ছেড়েছুড়ে বিলাসীর সাথে সাপুড়ে হয়ে গেল। গ্রামের লোকজন ভাবল, এ তো তার ক্যারিয়ারের পতন। কিন্তু ওরা আসলে অনেক খুশি ছিল, সত্যি বলতে, ওটা কোনো অস্থায়ী সম্পর্ক ছিল না, ওটা ছিল একেবারে শেষপর্যন্তের বন্ধন।
সবই মসৃণ চলছিল, কিন্তু একদিন সাপ ধরতে গিয়ে যখন মৃত্যুঞ্জয় কামড় খেলো, তখন আর কোনো ভাগ্য তাকে বাঁচাতে পারল না। লোকটা ওখানেই শেষ। এর কয়েক দিন পর বিলাসী যখন নিজেকে শেষ করে দিল, সমাজ আবার তাদের মূল্যবোধ নিয়ে বিষাক্ত ইতিবাচকতা ছড়াতে আসল।
শেষ কথা
আমার কাছে মনে হয়েছে, বিলাসীর ভালোবাসাটা ছিল একেবারে উৎকৃষ্ট পর্যায়ের। তোমাদের এই বিচারমূলক সমাজ ওকে কোনোদিন বুঝতে পারবে না। মিথ্যে বলছি না, শরৎচন্দ্র ভাই সেই আমলেই আমাদের সমাজের আসল চেহারাটা উন্মোচন করে দিয়েছেন, যা আজও প্রাসঙ্গিক।



