মালয়ালম অভিনেতা দুলকার সালমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও একটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে কোচি কাস্টমস। ভারতের কেরালায় কাস্টমস প্রিভেন্টিভ কমিশনারেটের ‘অপারেশন নামখোর’-এর আওতায় নেপাল ও ভুটান সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বিলাসবহুল গাড়ি পাচার চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার হয়েছে। এই তদন্তের অংশ হিসেবে দুলকার সালমানের নাম জড়িয়ে পড়ায় এ পর্যন্ত মোট চারটি গাড়ি জব্দ করা হলো।
চতুর্থ গাড়ি জব্দ
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) কোচির কালামাসেরির একটি গাড়ির শোরুম থেকে একটি বিলাসবহুল নিসান পেট্রোল এসইউভি জব্দ করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। তাদের সন্দেহ, আমদানি শুল্ক ও কর ফাঁকি দিতে জাল নথিপত্র এবং ভুয়া রেজিস্ট্রেশন রেকর্ড তৈরি করে ভুটান-নেপাল সীমান্ত রুট দিয়ে গাড়িটি অবৈধভাবে ভারতে আনা হয়েছিল।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি জব্দ হওয়া এই এসইউভি গাড়িটি দুলকার সালমান অভিনীত ‘লাকি ভাস্কর’ চলচ্চিত্রে ব্যবহার করা হয়েছিল।
অভিনেতার অবস্থান
তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা বা নাম জড়িয়ে পড়ার পর অভিনেতা দুলকার সালমান আগেই আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। আদালতের কাছে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, ইতোপূর্বে জব্দ করা তিনটি গাড়িই তিনি ভারতের পূর্ববর্তী মালিকদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ বৈধ উপায়ে এবং আইনসম্মত নথিপত্রের মাধ্যমে কিনেছিলেন। প্রতিটি গাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করা হয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো অবৈধ পাচার চক্রের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।
তদন্ত অব্যাহত
কাস্টমস কর্মকর্তারা এখন খতিয়ে দেখছেন যে নতুন জব্দ হওয়া এই চতুর্থ গাড়িটির মালিকানার সঙ্গেও অভিনেতার কোনো সরাসরি বা পরোক্ষ আইনি সংযোগ রয়েছে কিনা।
এদিকে এই আন্তর্জাতিক গাড়ি পাচার চক্রের দেশীয় নেটওয়ার্ক ভাঙতে শুক্রবার (১৫ মে) কাস্টমস কর্মকর্তারা জেন মারভা নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জেন মারভা কোঝিকোড়ের একটি গাড়ি শোরুমের অংশীদার। অভিযোগ রয়েছে, ভুটান ও নেপাল থেকে চোরাই পথে আসা বিলাসবহুল এসইউভিগুলো কেরালায় বিতরণের ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছিলেন। গত ১৪ মে কোঝিকোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কোন কোন বড় নাম জড়িত রয়েছে, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সূত্র: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস



