আমজাদ খানের মৃত্যুর ৩৪ বছর পর শাদাব খানের স্মৃতিচারণ
আমজাদ খানের মৃত্যু: শাদাব খানের স্মৃতিকথা

বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা আমজাদ খানের মৃত্যুর ৩৪ বছর পর তাঁর ছেলে শাদাব খান সেই শোকের মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছেন। 'শোলে' সিনেমায় গব্বর সিং চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন আমজাদ খান। গব্বর সিং এখনো হিন্দি সিনেমার অন্যতম আলোচিত খল চরিত্র।

মৃত্যুর দিনের স্মৃতি

শাদাব খান জানান, ১৯৯২ সালে যখন তাঁর বাবা মারা যান, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। সেদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে তিনি জানতে পারেন, বাবা ঘুম থেকে উঠছেন না। গিয়ে দেখেন, শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। দ্রুত ডাক্তার ডাকা হয়। পরে চিকিৎসক জানান, এটি ছিল ভয়াবহ হার্ট অ্যাটাক।

বেদনাদায়ক মুহূর্ত

সবচেয়ে বেদনাদায়ক অংশটি আসে এরপর। শাদাবের ভাষায়, চিকিৎসক একটি জরুরি ইনজেকশনের কথা বলেছিলেন। তিনি সেটি আনতে গিয়েছিলেন, কিন্তু ফিরে এসে শুনতে হয়—তিনি কয়েক সেকেন্ড দেরি করে ফেলেছেন। সেই আঘাত তিনি নিতে পারেননি। শাদাব বলেন, সেই মুহূর্তে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। রাগে ও শোকে তিনি বাসার জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন, দেয়ালে ঘুষি মারেন, এমনকি চিকিৎসকের গায়েও হাত তোলেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, বাবাকে হঠাৎ হারানোর ট্রমা তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রোধ ও হতাশার মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আর্থিক সংকট ও সেলিম খানের সাহায্য

এই সাক্ষাৎকারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। শাদাব জানান, বাবার মৃত্যুর পর তাঁদের পরিবার ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়ে। তাঁর দাবি, চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন প্রযোজকের কাছে আমজাদ খানের প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ রুপি পাওনা ছিল, যা আর কখনো ফেরত পাওয়া যায়নি। সেই সময়ের হিসাবে এটি ছিল বিশাল অঙ্ক। তবে কঠিন সেই সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন চিত্রনাট্যকার সেলিম খান। শাদাবের ভাষায়, বাবার মৃত্যুর পর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের খরচ নীরবে নিজের পকেট থেকে বহন করেছিলেন তিনি। কোনো প্রচার ছাড়াই পরিবারের পাশে ছিলেন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ