তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়কে ক্ষমতায় আসা ঠেকাতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের সম্ভাব্য জোট নিয়ে আলোচনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে অস্বীকার করেছেন ভারতের দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার রজনীকান্ত। রোববার (১৭ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রজনীকান্ত বলেন, এ ধরনের রাজনীতি করার মানুষ তিনি নন। তাকে ঘিরে ছড়ানো নানা গুঞ্জন ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজয়ের উত্থান ও জোট আলোচনা
সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ের দল টিভিকে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এরপর সরকার গঠন ঘিরে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের মধ্যে সমঝোতার আলোচনা চলছে—এমন খবর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। সেই সময়ই ডিএমকে নেতা এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গে রজনীকান্তের সাক্ষাৎ নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্ট্যালিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে
এ প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, স্ট্যালিন তার বহু বছরের বন্ধু। নির্বাচনে তার পরাজয় তাকে কষ্ট দিয়েছে বলেই সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে সেই সাক্ষাৎকে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বিজয়ের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি
রজনীকান্ত আরও বলেন, বিজয়ের উত্থানকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। তার ভাষায়, তামিলনাড়ুর দুই বড় রাজনৈতিক শক্তি এবং কেন্দ্রের বিজেপির উপস্থিতির মাঝেও বিজয়ের এমন সাফল্য বড় অর্জন। তিনি বলেন, বিজয়ের প্রতি তার কোনো বিরূপ মনোভাব নেই; বরং নতুন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য তিনি খুশি। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ব্যক্তিগতভাবেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে জানান এই অভিনেতা।
রাজনীতি ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক
রাজনীতি প্রসঙ্গে রজনীকান্ত বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তাই বিজয়ের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রশ্নও আসে না। বয়সের পার্থক্যের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অনেক বছর ধরেই বিজয়কে চেনেন এবং তার সফলতায় বিরক্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
নতুন সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান
নতুন সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রজনীকান্ত বলেন, রাজনীতি অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ জায়গা। তাই বিজয়কে অন্তত দুই বছর সময় দেওয়া উচিত। পাশাপাশি সমর্থকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করার পরামর্শ দেন তিনি। তামিলনাড়ুর দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বহু দশক ধরে একই ধরনের রাজনীতি দেখার পর হয়তো মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল।
চলচ্চিত্র জগতের রাজনৈতিক প্রভাব
উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে চলচ্চিত্র জগতের প্রভাব নতুন নয়। এম জি রামাচন্দ্রন ও বিজয়কান্তের পর এবার অভিনেতা বিজয় মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে রজনীকান্তকেও সম্ভাব্য রাজনৈতিক মুখ হিসেবে দেখা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে আসেননি।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিতি
বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন কি না—এমন প্রশ্নে রজনীকান্ত জানান, অতীতে কোনো মুখ্যমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানেই তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তবে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি, আর সেই প্রত্যাশা পূরণে বিজয় সফল হবেন বলেই তিনি আশা করেন।



