নেটফ্লিক্সের নতুন সিনেমা ‘অ্যাপেক্স’ মুক্তির পর থেকেই বৈশ্বিক টপ চার্টের শীর্ষে ছিল, এখন দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। প্রথম ১০ দিনে ৮ কোটি ভিউ পেয়েছে সারভাইভাল থ্রিলারটি। শার্লিজ থেরন ও ট্যারন এগারটন অভিনীত এই সিনেমাটি পুরোনো ধাঁচের হলেও কিছু আশাজাগানিয়া মুহূর্ত রয়েছে।
গল্প ও দৃশ্যায়ন
আইসল্যান্ডীয় নির্মাতা বালতাসার কোরমাকুরের ‘অ্যাপেক্স’ শুরু হয় নরওয়ের সুউচ্চ পাহাড়ে। সাশা (শার্লিজ থেরন) ও টমি (এরিক বানা) ভয়ংকর ট্রল ওয়ালের খাড়া পাহাড়ে আরোহণ করছেন। তাঁদের তাঁবু ঝুলছে প্রায় ৯০ ডিগ্রি খাড়া পাথুরে পাহাড়ের গায়ে, নিচে অতল খাদ। পরিচালক ও চিত্রগ্রাহক লরেন্স শের মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া ড্রোন শট ব্যবহার করেছেন, যা বিপদের অনুভূতি তীব্র করে।
ঝড় ঘনিয়ে এলেও সাশা থামতে চায় না, কিন্তু টমি তাকে রাজি করায় নিচে নামতে। পরদিন নিরাপদে নামার চেষ্টায় ট্র্যাজেডি ঘটে। পাঁচ মাস পর সাশা অস্ট্রেলিয়ায় একা ক্যাম্পিং করতে আসে। কাল্পনিক ওয়ানডারা ন্যাশনাল পার্কে পার্ক রেঞ্জার (অ্যারন পেডারসন) তাকে সতর্ক করেন। স্থানীয় এক ভয়ংকর ক্যাঙারু শিকারি (ম্যাট হোয়েলান) ও তার মাতাল সঙ্গী (রব কালটন) সাশাকে বিরক্তি করে। পরে হাজির হয় বেন (ট্যারন এগারটন), যে তাকে ঘুরপথে যেতে বলে।
অভিনয় ও পরিচালনা
ট্যারন এগারটন বেন চরিত্রে যথেষ্ট শীতল ও ভয়ংকর। কখনো অদ্ভুত হাস্যরস, কখনো শিশুসুলভ আচরণ—সব মিলিয়ে মানসিক বিকারের ইঙ্গিত। শার্লিজ থেরন সাশা চরিত্রে কোনো অজেয় সুপারহিরো নন, বরং আতঙ্কিত ও বিধ্বস্ত এক নারী। তাঁর সংযত দৃঢ়তা ও সহনশীলতা এগারটনের উন্মাদ চিৎকারের বিপরীতে দারুণ দ্বন্দ্ব তৈরি করে।
কোরমাকুর অস্ট্রেলিয়ার পাহাড়ি প্রকৃতি ও ঘন জঙ্গলকে দারুণভাবে ব্যবহার করেছেন। জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সাশার প্রাণপণ দৌড়ের দৃশ্যগুলো প্রবল রোমাঞ্চ তৈরি করে। তবে সিনেমাটি চরিত্রের গভীরে যেতে চায় না, ফলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার অংশগুলো কখনো কখনো পুনরাবৃত্তিমূলক মনে হতে পারে।
সারসংক্ষেপ
‘অ্যাপেক্স’ মাত্র ঘণ্টা দেড়েকের সিনেমা। পুরোনো টেমপ্লেট মেনে চললেও প্রকৃতির ব্যবহার ও অভিনয়ের জন্য একবার দেখা যেতেই পারে।



