সালমান শাহ হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা আবার পিছিয়েছে
সালমান শাহ হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন পিছিয়েছে

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় তাঁর সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৩ জুন পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।

আজকের শুনানি ও নতুন তারিখ

আজ বৃহস্পতিবার মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে এদিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আতিকুল ইসলাম খন্দকার প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন। এ নিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা দিতে সাতবার সময় নিলেন।

পুলিশের বক্তব্য

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী উপপরিদর্শক মো. রেজাউল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তদন্ত কর্মকর্তা সময়মতো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি, তাই আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার পটভূমি

২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলাটি করেন। আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আসামিরা

মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চলচ্চিত্র অভিনেতা ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এজাহারে বর্ণিত ঘটনা

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান তাঁর মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরীসহ পরিবারের সদস্যরা। সেখান থেকে তাঁদের সিলেটে যাওয়ার কথা ছিল। তাঁরা সালমানের বাসায় গিয়ে জানতে পারেন, তিনি ঘুমাচ্ছেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খবর পান, সালমানের ‘কিছু একটা হয়েছে’। দ্রুত সেখানে গিয়ে তাঁরা সালমানকে তাঁর শোবার ঘরে পড়ে থাকতে দেখেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সে সময় রুবী নামের এক নারীসহ কয়েকজন সালমানের হাতে-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন। সামিরা তখন সালমানের মা-বাবাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে সালমানকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

প্রায় তিন দশক পর এই মামলা দায়ের করা হয়, যা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সালমান শাহর মৃত্যুকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও দীর্ঘদিন কোনো মামলা হয়নি। এবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় পিছিয়ে যাওয়ায় মামলাটির সুরাহায় আরও বিলম্ব হলো।