ওভেন থেকে বের হওয়া গরম পাউরুটি, চোখের সামনে তৈরি কেক-প্যাটিস, আর টাটকা খাবারের ঘ্রাণ—এসব নিয়েই এখন শহরজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘লাইভ বেকারি’। শুধু নামেই নয়, প্রস্তুত প্রক্রিয়াটিও সরাসরি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা। ফলে খাবারের স্বাদে যেমন বাড়ছে ভিন্নতা, তেমনি আস্থাও। অল্প সময়ের মধ্যেই এসব বেকারি ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। রাজধানী থেকে জেলা শহর—সবখানেই গরম ও তাজা খাবারের টানে বাড়ছে লাইভ বেকারির ভিড়।
বিক্রমপুর লাইভ বেকারির চিত্র
মঙ্গলবার রাত ৮টার পর বনশ্রীর ই-এফ ব্লকের এভিনিউ রোডে অবস্থিত বিক্রমপুর লাইভ বেকারির সামনে ছিল ক্রেতাদের ভিড়। ভেতরে তখন ব্যস্ত সময় পার করছিলেন কর্মচারীরা। কেউ গরম পাউরুটি ওভেন থেকে তুলছেন, কেউ কাটছেন, আবার কেউ প্যাকেট করছেন। পুরো প্রক্রিয়াটিই চোখের সামনে দেখছিলেন ক্রেতারা। এ সময় কথা হয় দোকানের কর্মচারী হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, এই দৃশ্য প্রতিদিনের। “গরম টাটকা পাউরুটি, প্যাটিস, কেক এমনকি বিস্কুটও কিনছেন ক্রেতারা। চোখের সামনে তৈরি হতে দেখায় আগ্রহও বেশি।”
তৈরি ও বিক্রির সময়সূচি
তিনি জানান, সকাল ও বিকালে দু’বার এসব খাবার তৈরি করা হয়। সকালে তৈরি করা পণ্য বিকালের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়, আর বিকালের তৈরি খাবার রাত ১১টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। ফলে বাসি খাবার প্রায় থাকে না বললেই চলে। হাসান আরও জানান, বনশ্রীতেই তাদের তিনটি শাখা রয়েছে, এছাড়া বাড্ডাতেও শাখা আছে। সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচটি শাখায় একই রকম ভিড় দেখা যায়।
ক্রেতাদের মতামত
পাউরুটি কিনতে আসা আব্দুল মজিদ বলেন, “গরম গরম পাউরুটির স্বাদ আলাদা। দোকানে আগে থেকে রাখা পাউরুটির চেয়ে এটা অনেক ভালো লাগে।” তিনি বলেন, বিকালে স্ত্রী, বাচ্চাদের প্রথম চাওয়াই হয়ে উঠেছে এটি। আরেক ক্রেতা হাসান বলেন, “গরম খাবারের স্বাদ সবসময়ই ভিন্ন। চোখের সামনে তৈরি হতে দেখছি, তাই আস্থাও বেশি।” কেক কিনতে আসা জয়নাল আবেদিন বলেন, “এখানকার কেকগুলো বেশ ভালো। বাজারের দামি কেকের তুলনায় কোনও অংশে কম না। তাই বারবার কিনতে আসি।”
ব্যবসার প্রসার
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীজুড়েই এখন লাইভ বেকারির বিস্তার ঘটছে। গরম ও টাটকা খাবারের কারণে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে এই ব্যবসার জনপ্রিয়তাও।



