আনহেল দি মারিয়া ১৯৮৮ সালে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তার বয়স ৩৮ বছর। মাত্র চার বছর বয়সে এক চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ফুটবল খেলতে পাঠানো হয়। বিষয়টি শুনতে অদ্ভুত লাগলেও সত্যি – কোচ নয়, চিকিৎসকই তাকে ফুটবলের পথ দেখান। কারণ, দি মারিয়ার অতিরিক্ত দৌড়ানোর কারণে তার মা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। সব শুনে চিকিৎসক বলেছিলেন, ‘কী করবেন মানে! ছেলেকে ফুটবল খেলতে দিন।’
শৈশব ও ক্লাব ক্যারিয়ারের শুরু
চার বছর বয়সে দি মারিয়াকে রোজারিও সেন্ট্রাল একাডেমিতে ভর্তি করা হয়। এই সময় তার মা একটি মরিচা ধরা, পুরোনো, হলুদ বাইসাইকেল চালিয়ে তাকে প্র্যাকটিসে নিয়ে যেতেন। শৈশবে দুবার হতাশ হয়ে ফুটবল ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। ১৩ বছর ক্লাবটির বয়সভিত্তিক ও যুবদলে খেলার পর ২০০৫ সালে মূল দলের হয়ে তার অভিষেক হয়।
ইউরোপে পাড়ি জমানো
২০০৭ সালে ইউরোপে পাড়ি জমান দি মারিয়া। নাম লেখান পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকায়। এরপর রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, পিএসজি, জুভেন্টাস এবং আবার বেনফিকার হয়ে খেলেন দীর্ঘদিন।
জাতীয় দলের সাফল্য
২০০৮ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে অভিষেক হয় দি মারিয়ার। দেশের হয়ে ১৪৫ ম্যাচে ৩১টি গোল করেন। এর বাইরে ১৪৫টি ম্যাচেই মাঠে দলের হয়ে তার অবদান দর্শক ভালো করেই জানেন। দেশের হয়ে তার ঝুলিতে আছে অলিম্পিক ফুটবলের স্বর্ণপদক, কোপা আমেরিকা ফাইনাল, ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২২, ফিনালিসিমা ও কোপা আমেরিকার শিরোপা। আর্জেন্টিনার হয়ে গোলের অনন্য কীর্তি গড়া দি মারিয়া জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েছেন ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতার পর।
নিজ শহরে ফেরা ও ব্যক্তিগত জীবন
সারা পৃথিবী ঘুরে ফুটবল খেলে, ইউরোপের ১৮ বছরের ক্যারিয়ার শেষে আবার ফিরে এসেছেন নিজের শহরে। জাতীয় দলকে গুডবাই জানালেও ২০২৫ সালে নিজ শহরের সেই শৈশবের ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালে খেলছেন দি মারিয়া। ২০১১ সালে বান্ধবী জর্জেলিনা কারদোসোকে বিয়ের পর নানা জায়গায় সংসার করেছেন তাঁরা। দুই মেয়ে আর পরিবার নিয়ে দি মারিয়া এখন থিতু হয়েছেন নিজের জন্মস্থানে।
পরিবার ও বিশ্বকাপ
বিভিন্ন সময়ে পরিবার নিয়ে ঘোরাফেরার ছবি দেন দি মারিয়া। বিশ্বকাপের শুরুতেও তেমনটাই দেখা গেছে। খেলাধুলার বাইরের সময়টা পরিবারের সঙ্গে কাটাতে ভালোবাসেন। বাইরে ঘোরা, রেস্তোরাঁয় খাওয়া আর পুলের পানিতে সাঁতার কাটতে দেখা যায় তাকে। বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে কেমন কাটছে তার দিন? মেসি যখন একটার পর একটা গোল করে চলেছেন, নিজের জন্য কি একটু মন খারাপ লাগছে দি মারিয়ার? অবশ্য বিশ্বকাপ উপলক্ষে একটি খেলাধুলাবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের প্রচারণায় নিজের জার্সিতে স্বাক্ষর করতে দেখা গেছে দি মারিয়াকে। আর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘সুযোগ পেলে মাঠে বসে দেশের ফুটবল বিশ্বকাপ উপভোগ করব।’ তাই ভক্তরা আশা করতে পারেন, আর্জেন্টিনার পরবর্তী কোনো ম্যাচে দি মারিয়াকে গ্যালারিতে দেখা যেতেই পারে।



