কাইলি মিনোগ মন্তব্যে ক্ষমা চাইলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী
কাইলি মিনোগ মন্তব্যে ক্ষমা অ্যান্থনি আলবানিজের

পপ আইকন কাইলি মিনোগকে নিয়ে ‘অনুপযুক্ত’ মন্তব্যের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। গত সপ্তাহে ‘বুশ ডিপ’ পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে দেওয়া তার মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। সোমবার (৬ জুলাই) বিবিসি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পডকাস্টে কী ঘটেছিল?

কৌতুকশিল্পী নিকি অসবোর্নের একটি সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন অ্যান্থনি আলবানিজ। রাজধানী ক্যানবেরায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ধারণ করা ওই অনুষ্ঠানে তাকে কাইলি মিনোগ, অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান এবং বিনোদনজগতের পরিচিত মুখ রোন্ডা বার্চমোর—এই তিনজনের মধ্যে কাকে বিয়ে, ডেট কিংবা শারীরিক সম্পর্কের জন্য বেছে নেবেন, এমন প্রশ্ন করা হয়। প্রথমে প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন আলবানিজ। তিনি বলেন, তিনি মাত্র কয়েক মাস আগে বিয়ে করেছেন। তবে উপস্থাপক বারবার একই প্রশ্ন করলে তিনি কাইলি মিনোগের নাম উল্লেখ করে হাস্যরসের ছলে বলেন, বিয়ে, ডেট এবং শারীরিক সম্পর্ক সব ক্ষেত্রেই তিনি কাইলি মিনোগকেই বেছে নেবেন।

প্রতিক্রিয়া ও ক্ষমা

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই মন্তব্যটিকে নারীদের প্রতি অসম্মানজনক এবং প্রধানমন্ত্রীর পদের মর্যাদার সঙ্গে অসঙ্গত বলে মন্তব্য করেন। সমালোচনার মুখে সোমবার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, “আমার মন্তব্যের জন্য আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে ক্ষমা চাইছি।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য জালি স্টেগেল বলেন, “একজন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে নেতাদের উদাহরণ সৃষ্টি করা উচিত।” বিরোধী দলের যোগাযোগবিষয়ক মুখপাত্র সারাহ হেন্ডারসনও সামাজিক মাধ্যমে বলেন, “এই মন্তব্য নারীদের প্রতি অসম্মানজনক, অস্ট্রেলিয়ার জন্য লজ্জাজনক এবং প্রধানমন্ত্রীর পদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের অবস্থান

বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সরকারি সফরে রয়েছেন অ্যান্থনি আলবানিজ। তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন রিচার্ড মার্লেস। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার সমাজে নারীদের মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় নারী ও পুরুষ সদস্যের সংখ্যা সমান।