টেইলর সুইফটের নামে বালিশ-বিছানার চাদর বিক্রি, গায়িকার আইনি পদক্ষেপ
বিশ্বখ্যাত পপ তারকা টেইলর সুইফট একটি বেডিং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। নিউ ইয়র্কভিত্তিক 'ক্যাথে হোম' নামের প্রতিষ্ঠানটি তার নাম ও খ্যাতি ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন গায়িকা। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন সরকারের কাছে ট্রেডমার্ক বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
ট্রেডমার্ক ব্যবহারের অভিযোগ
টেইলর সুইফটের দাবি, 'সুইফট হোম' নামে ট্রেডমার্ক ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি বিছানার চাদর ও বালিশ বাজারজাত করার চেষ্টা করছে। এতে সাধারণ গ্রাহকরা বিভ্রান্ত হয়ে পণ্যগুলোর সঙ্গে গায়িকার সম্পৃক্ততা আছে বলে মনে করতে পারেন— এমন আশঙ্কা থেকেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ইউনাইটেড স্টেটস প্যাটেন্ট অ্যান্ড ট্রেডমার্ক অফিসে জমা দেওয়া নথিতে সুইফটের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান টিএএস রাইটস ম্যানেজমেন্ট এলএলসি এই আপিল করে।
স্বাক্ষরের অনুকরণের অভিযোগ
টেইলর সুইফটের আইনজীবী জানিয়েছেন, ক্যাথে হোম তাদের পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ে 'সুইফট হোম' শব্দটি এমনভাবে লোগো হিসেবে ব্যবহার করেছে, যা গায়িকার স্বাক্ষরের অনুকরণ বলে মনে হয়। এই ব্যবহার গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং গায়িকার ব্র্যান্ড ইমেজ ক্ষুণ্ণ করতে পারে। সুইফটের দল এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ট্রেডমার্ক সুরক্ষার ইতিহাস
উল্লেখ্য, টেইলর সুইফত নিজের নাম, আদ্যক্ষর, অ্যালবামের নাম এমনকি গানের কিছু অংশের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে ৩০০টিরও বেশি ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করেছেন। পোশাক থেকে শুরু করে গৃহস্থালি পণ্য— নানা ক্ষেত্রে তার নাম ব্যবহারের অধিকার তিনি আগে থেকেই সংরক্ষণ করে রেখেছেন। এই পদক্ষেপ তার ব্র্যান্ড সুরক্ষা কৌশলের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ধনী সংগীতশিল্পীর অবস্থান
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ধনী সংগীতশিল্পী টেইলর সুইফট। তার রেকর্ডভাঙা বিশ্বভ্রমণ দ্য ইরাস ট্যুর থেকে আয়ের পর গায়িকার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই সাফল্যের পাশাপাশি তিনি বরাবরই নিজের ব্র্যান্ড ইমেজ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেন। সর্বশেষ এই আইনি পদক্ষেপ যেন তারই নতুন এক উদাহরণ, যা তার পেশাদারিত্ব ও সতর্কতাকে প্রতিফলিত করে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মামলা ট্রেডমার্ক আইনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। গায়িকার আইনি দল আশা করছেন, দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে তার ব্র্যান্ডের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
