আবুল হায়াতের মন্তব্য: তৌকীর আহমেদ আমার জীবনের 'প্রথম ভিলেন'
আবুল হায়াত: তৌকীর আহমেদ আমার জীবনের 'প্রথম ভিলেন'

আবুল হায়াতের মন্তব্য: তৌকীর আহমেদ আমার জীবনের 'প্রথম ভিলেন'

বর্ষীয়ান অভিনেতা আবুল হায়াত তার জামাতা নির্মাতা ও অভিনেতা তৌকীর আহমেদকে জীবনের 'প্রথম ভিলেন' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তৌকীর আহমেদই তাকে জীবনে সবচেয়ে বেশি কাঁদিয়েছেন। রোববার (১৯ এপ্রিল) শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় 'ছয় দশক পেরিয়ে তৌকীর আহমেদ' শীর্ষক অনুষ্ঠানমালায় এমন মন্তব্য করেন আবুল হায়াত।

সৃজনশীল মানুষের গুণাবলি

অনুষ্ঠানে প্রথমে আবুল হায়াত বলেন, একজন সৃজনশীল মানুষ হতে হলে শুধু প্রথাগত জ্ঞানই যথেষ্ট নয়, অন্যান্য জ্ঞানও থাকা আবশ্যক। তিনি উল্লেখ করেন যে তৌকীর আহমেদের মধ্যে এই গুণটি বিদ্যমান। আবুল হায়াতের মতে, তৌকীরের সবচেয়ে বড় গুণ হলো তার বই পড়ার অভ্যাস। তিনি বলেন, 'তৌকীর বিভিন্ন ধরনের বই পড়ে। আমি যদি তৌকীরের সাথে এক ঘণ্টা কথা বলি, আমার মনে হয় আমি ওর কাছ থেকে এক ঘণ্টায় অনেক কিছু শিখলাম।'

বিপাশা হায়াতের বই পড়ার অভ্যাস

আবুল হায়াত আরও বলেন, তার মেয়ে অভিনেত্রী বিপাশা হায়াতেরও একই রকম বই পড়ার 'রোগ' রয়েছে। তিনি জানান, বিপাশা যখন দশম শ্রেণিতে পড়তেন, তখনই কোরআন, বেদ, বাইবেলের মতো ধর্মগ্রন্থগুলো পড়া শেষ করেছিলেন। আবুল হায়াত বলেন, 'এখনও সে বই পড়ে। পড়া শেষে আমাকে সে গল্প বলে।' তিনি উল্লেখ করেন যে এই দুই বইপ্রেমী মানুষ যখন একত্রিত হয়েছেন, সেদিন তিনি অনেক কেঁদেছেন। আবুল হায়াত বলেন, 'তাই আমি এখনও বলি, তৌকীর আমাকে সবচেয়ে বেশি কাঁদিয়েছে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবেগঘন মুহূর্তের স্মৃতি

আবেগে আপ্লুত হয়ে আবুল হায়াত বলেন, 'যেদিন তৌকীর বিয়ে করে বিপাশাকে নিয়ে গেল, আমি এত কান্না আমার জীবনে কাঁদিনি।' তিনি ব্যাখ্যা করেন যে তার দুই কন্যার বিয়েতেই তিনি কেঁদেছেন, যার মধ্যে তৌকীর ছিলেন 'প্রথম ভিলেন'। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে তিনি সুখী, কারণ তৌকীরের জীবনে সবকিছু গোছানো ও হিসেব করা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তৌকীর আহমেদের ব্যক্তিত্ব

সবশেষে আবুল হায়াত তৌকীর আহমেদের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বলেন, 'তার নিজের পরিবারের প্রতি, মা-ভাইবোনদের প্রতি তার যেমন ভক্তি-শ্রদ্ধা, আমাদের প্রতিও তার চেয়ে কম ভক্তি-শ্রদ্ধা নেই। আমরা তার আপন বাবা-মায়ের মতোই।' তিনি জানান, ব্যক্তিজীবনে তৌকীর দুই সন্তানের বাবা এবং তিনি দুই সন্তানকেই মায়ের মতো লালন-পালন করেন। আবুল হায়াত বলেন, 'আমি সব সময় বলি, তৌকীর তুমি আমেরিকায় থাকো কি বাংলাদেশে থাকো- এমনি থাকো আর কাজ করে যাও।'

পরিবারিক সম্পর্ক

উল্লেখ্য, বর্ষীয়ান অভিনেতা আবুল হায়াতের জামাতা হন নির্মাতা ও অভিনেতা তৌকীর আহমেদ। ১৯৯৩ সালের ২৩ জুলাই আবুল হায়াতের বড় মেয়ে অভিনেত্রী বিপাশা হায়াতকে বিয়ে করেন তৌকীর। ব্যক্তিজীবনে তৌকীর-বিপাশা দম্পতি দুই সন্তানের বাবা-মা। এই দীর্ঘ সম্পর্কের মধ্যে আবুল হায়াতের মন্তব্য একটি আবেগঘন ও স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।