২০০ কোটি রুপির বহুল আলোচিত অর্থ পাচার মামলায় নতুন করে বড় ধরনের আইনি চাপের মুখে পড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। এই মামলায় সরকারি সাক্ষী হয়ে নিজেকে রক্ষার যে চেষ্টা তিনি করছিলেন, তা ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) আদালতে দাবি করেছে যে, জ্যাকুলিন এই মামলার কেবল একজন ভুক্তভোগী নন, বরং মূল অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখরের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সমান অংশীদার।
সরকারি সাক্ষী হওয়ার আবেদন প্রত্যাহার
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখরকে ঘিরে চলা এই অর্থ পাচার মামলায় সরকারি সাক্ষী হওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জ্যাকুলিন। তবে গত ১১ মে আদালতে সেই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে ইডি। তদন্তকারী সংস্থাটির সাফ বক্তব্য ছিল, জ্যাকুলিনের বিরুদ্ধে যেসব তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, তাতে তাকে সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই; বরং তাকে অভিযুক্ত হিসেবেই দেখা উচিত। এই পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার বিশেষ বিচারক প্রশান্ত শর্মার আদালতে নিজের আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেন জ্যাকুলিন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিনেত্রীর আইনজীবীরাও।
ইডির কঠোর অবস্থান
তদন্তকারী সংস্থা ইডির দাবি, সুকেশ চন্দ্রশেখরের অপরাধমূলক অতীত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকার পরও জ্যাকুলিন তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে যে, সুকেশ অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে জ্যাকুলিনকে বিপুল পরিমাণ দামি উপহার, গয়না, বিলাসবহুল ব্যাগ ও গাড়ি দিয়েছিলেন। এমনকি অভিনেত্রীর পরিবারের সদস্যদের কাছেও বিপুল পরিমাণ আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
ইডি আদালতকে আরও জানায়, জ্যাকুলিন ও সুকেশের মধ্যে নিয়মিত ফোনালাপ ও বার্তা আদান-প্রদানের প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। এসব তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ইডি মনে করছে, জ্যাকুলিন নিজেকে ‘অজ্ঞাতসারে প্রতারিত’ ব্যক্তি হিসেবে দাবি করার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই; কারণ তিনি জেনেশুনেই এসব অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন। ইডির ভাষ্যমতে, অর্থের উৎস সম্পর্কে জ্যাকুলিন ইচ্ছাকৃতভাবে উদাসীন ছিলেন এবং অপরাধের অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে অর্থ পাচার প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে ওঠেন। ফলে এখন নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করা কেবল আইনি সুবিধা পাওয়ার একটি কৌশল মাত্র।
মামলার পটভূমি
এর আগে এই মামলায় বেশ কয়েকবার ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন জ্যাকুলিন এবং পরে সংস্থাটির দাখিল করা সম্পূরক চার্জশিটে প্রথমবারের মতো অভিযুক্ত হিসেবে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। উল্লেখ্য যে, দিল্লির ব্যবসায়ী পরিচয়ে সুকেশ চন্দ্রশেখর প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তারকাদের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বর্তমানে জেলবন্দী রয়েছেন।



