স্মৃতিচারণে উদীচীর সভাপতি অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদকে শ্রদ্ধা
স্মৃতিচারণে উদীচীর সভাপতি ড. সফিউদ্দিন আহমদকে শ্রদ্ধা

গান, আবৃত্তি ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে সদ্যপ্রয়াত সভাপতি অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদকে স্মরণ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনের কমরেড মনি সিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্ট মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদন করেন সহকর্মী, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষাবিদ ও স্বজনরা।

শ্রদ্ধা নিবেদন ও সঙ্গীত

অনুষ্ঠানের শুরুতে ড. সফিউদ্দিন আহমদের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ। পরে কেন্দ্রীয় সঙ্গীত বিভাগের শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসংগীত ‘তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে’।

আলোচনা সভা

উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার শুরুতে প্রয়াত এই শিক্ষাবিদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি বেলায়েত হোসেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আলোচনা পর্বে ড. সফিউদ্দিন আহমদের জীবন, কর্ম, আদর্শ ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তাঁর অবদান নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন উদীচীর সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক এ এন রাশেদা, এম এ আজিজ মিয়া, সংগঠনের সাবেক সদস্য শংকর সাওজাল, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আকমল হোসেন, উদীচীর সহ-সভাপতি প্রবীর সরদার, তাঁর মেয়ে সুহেলী সায়লা সাথী এবং ছেলে সাকী আহমেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনা

অনুষ্ঠানে একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পী শাওন কুমার রায় এবং ড. সফিউদ্দিন আহমদের দুই নাতনি স্বস্তি ও স্বজ্ঞা। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন উদীচীর কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শিখা সেনগুপ্তা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বক্তাদের স্মৃতিচারণ

বক্তারা বলেন, স্কুল ও কলেজজীবন থেকেই ড. সফিউদ্দিন আহমদ শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক বিকাশে নিবেদিত খেলাঘর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মুক্তচিন্তা, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে তিনি আজীবন ধারণ ও লালন করেছেন। সাধারণ মানুষের সৃজনশীল শক্তির প্রতি তাঁর ছিল গভীর আস্থা। সেই বিশ্বাস থেকেই ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় সফর করে সংগঠনের কর্মীদের অনুপ্রাণিত করেন।

মাহমুদ সেলিম বলেন, “অহমবোধহীন, প্রাণখোলা ও সংস্কৃতিমনস্ক এই মানুষটি আজীবন শিল্প-সাহিত্য ও মানবিক চর্চার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। শারীরিক অসুস্থতা তাঁকে সংগঠনের কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরিয়ে দিলেও থামিয়ে রাখতে পারেনি তাঁর চিন্তা ও মননের প্রবাহ।”

তিনি আরও বলেন, “নয়াপল্টনের বাসভবন দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিকর্মীদের এক প্রাণবন্ত মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল, যেখানে গভীর রাত পর্যন্ত চলত সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রাণবন্ত আলোচনা।”

আলোচকরা আরও বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই ড. সফিউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক ও সামাজিক বোধের বিকাশ ঘটে। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক আন্দোলনের আদর্শ তিনি সারাজীবন ধারণ করেছেন। তাঁর লেখনী, বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাঙালির জাতীয় আত্মপরিচয় এবং মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষা সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

সমাপনী বক্তব্য

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে অমিত রঞ্জন দে বলেন, “ড. সফিউদ্দিন আহমদের চিন্তা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। শিক্ষক, গবেষক ও সংগঠক হিসেবে তিনি অসংখ্য ছাত্র, সংস্কৃতিকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীকে প্রভাবিত করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “ড. সফিউদ্দিন আহমদ শুধু একজন ব্যক্তি নন; তিনি বাংলাদেশের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ধারার এক উজ্জ্বল অধ্যায়।”