গুণীজনদের সম্মাননা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
গুণীজনদের সম্মাননা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে: মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, গুণীজনদের সম্মানিত করলে শুধু তাদের ব্যক্তিগত সম্মান বৃদ্ধি পায় না, বরং সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এই সম্মাননা সমাজে সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য

মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে ‘বিজনেস, সিএসআর অ্যান্ড কালচারাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে নতুনধরা গ্রুপ প্রেজেন্টস গ্লোবাল ব্র্যান্ডস এবং টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব বাংলাদেশ (ট্রাব)।

মন্ত্রী আরও বলেন, যেকোনো পুরস্কার একজন গুণী ব্যক্তিকে আরও বেশি উদ্যম ও উদ্যোগের জন্ম দেয় এবং সমাজের জন্য বৃহত্তর অবদান রাখতে অনুপ্রাণিত করে। তিনি বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, খুরশিদ আলমসহ অনেক গুণী শিল্পীর গান আজও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগ্রত রাখে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্মৃতিচারণ ও সংস্কৃতির গুরুত্ব

ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সুজন সখি’ সিনেমা তিনি অনেকবার দেখেছেন এবং আজও সেই দৃশ্যগুলো মনে দাগ কাটে। তিনি যাত্রাপালা, গম্ভীরার মতো লোকসংস্কৃতিতে শিক্ষণীয় উপাদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, মানুষের মনকে সান্ত্বনা ও প্রশান্তি দেওয়ার জন্য সিনেমা, নাটক, গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিকল্প নেই।

সংস্কৃতি মন্ত্রীর বক্তব্য

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় সংস্কৃতি মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাই। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠীগত মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে সকলকে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করাই আমাদের লক্ষ্য।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শিল্পীদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করা এবং সাংস্কৃতিক খাতকে আধুনিকায়নে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সম্মাননা প্রাপ্তরা

অনুষ্ঠানে মন্ত্রীদ্বয় সম্মাননা দেওয়া শিল্পীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। সাবিনা ইয়াসমিন ও মরহুম আলী আহমেদকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া আলতাফ মাহমুদ, ফেরদৌস আরা, ডি এ তায়েব, আসনা হাবিব ভাবনা, রিজিয়া পারভীন, রবি চৌধুরী, মনির খান, আলম আরা মিনু, হুমায়রা বশির, রাজা বশির, জারিন তাসনিম, চিত্রনায়িকা নতুন, খুরশিদ আলমসহ আরও বেশ কয়েকজন গুণী শিল্পীকে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ক্রেস্ট ও উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়।

সার্ক চলচ্চিত্র সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি রেদোয়ান খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব বাংলাদেশ (ট্রাব)-এর সভাপতি সালাম মাহমুদ।