গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা বর্তমানে তলানিতে এসে ঠেকেছে বলে মন্তব্য করেছেন দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ। তার মতে, এ পরিস্থিতির জন্য প্রধানত দায়ী গণমাধ্যমের মালিকদের হস্তক্ষেপ।
সরকারের চাপ নেই, মালিকদের চাপ আছে
তিনি বলেন, ‘সরকারের দিক থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চাপ আমরা অনুভব করছি না কিন্তু মালিকদের দিক থেকে সেটা আমরা দেখি।’ রোববার (৩ মে) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইউনেস্কো ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আয়োজিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাধীনতার ওপর দুই আঘাত
কামাল আহমেদ বলেন, গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে, কারণ গণমাধ্যম যথেষ্ট স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। এই স্বাধীনতার ওপরে আঘাত এসেছে দুটো দিক থেকে। একটি হলো বিগত স্বৈরশাসনের নিয়ন্ত্রণ ও ভয়ীভিতি, অন্যটি অর্থনৈতিক কারণ। মালিকদের প্রভাব ও করপোরেট স্বার্থ।
কামাল আহমেদ আরও বলেন, কিছু কিছু গণমাধ্যমের মালিকের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের কারণে সম্পাদকেরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন, সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী যখন অর্থ পাচারকারী বা ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশ করেন, তখন কিছু গণমাধ্যম সেই তালিকা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করে না। অনেক ক্ষেত্রে মালিকের নাম বাদ দিয়ে অন্যদের নাম প্রকাশ করা হয়। এমন যখন ঘটে, তখন বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায় গিয়ে ঠেকবে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপতথ্যের প্রভাব
গণমাধ্যমের প্রতি আস্থাহীনতার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য ও ভুয়া তথ্যকেও দায়ী করেন কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, এগুলোর বেশির ভাগই রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীস্বার্থে কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে খাটো করার জন্য, বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য প্রচার করা হয়। এগুলো দেখার পরে সাধারণ পাঠক যখন একই ঘটনা সংবাদমাধ্যমে ভিন্নভাবে দেখেন, তখন তাদের জন্য সেটি বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ সংকট ভবিষ্যতে আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
উত্তরণের পথ: টেকসই অর্থনৈতিক মডেল
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে টেকসই অর্থনৈতিক মডেলের ওপর গুরুত্ব দেন কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, সরকার বা অন্য কোনো গোষ্ঠীর আর্থিক সহায়তার ওপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়লে গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে ‘কমপ্রোমাইজ’ হবে। সে জন্যই আর্থিক স্বাধীনতার পথ বের করতে হবে। ‘পজিশন’ ধরে রাখতে যে সম্পাদকেরা মালিকদের সঙ্গে আপস করছেন তাদেরকেও দায়িত্বশীল হয়ে পেশার পক্ষে দাঁড়াতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তা
আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন গণমাধ্যমে নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। সভার উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুজান ভাইজ। এতে আরও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, যমুনা টিভির সিইও ফাহিম আহমেদ, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নি প্রমুখ।



