বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের হার কমছে না। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও সহিংসতার কারণে গত ১৬ মাসে নতুন করে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বুধবার (১৩ মে) জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
নতুন নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা
সংস্থাটির মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা এক লাখ ৪৯ হাজার ৭৬৯ জন রোহিঙ্গা নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে গত মাসেই দুই হাজার ৭৮০ জন নতুন আগত হিসেবে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে।
ক্যাম্পে মোট শরণার্থী
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোতে মোট ১১ লাখ ৯৪ হাজার ১২৩ জন রোহিঙ্গা শনাক্ত করা হয়েছে। শরণার্থীদের মধ্যে ৭৮ শতাংশই নারী ও শিশু, আর ১২ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি।
রোহিঙ্গা আগমনের কারণ
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও নির্যাতনের কারণে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এর ফলেই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে নিরাপত্তার সন্ধান করছে।
পূর্ববর্তী বাস্তুচ্যুতি
গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ইউএনএইচসিআর ১০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৪ জন রোহিঙ্গার নিবন্ধন করেছে, যারা ১৯৯০ এবং ২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৯ হাজার ৬৯১ জন ১৯৯০ সালের পর এবং ১০ লাখ ৪ হাজার ৬৬৩ জন ২০১৭ সালের পর বাংলাদেশে এসেছে।
নতুন আগতদের ঢেউ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে ২০২৪ সাল থেকে নতুন শরণার্থীরা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে ২০২৪ সালের শেষের দিকে ক্যাম্পগুলোতে নতুন আগতদের একটি ঢেউ লক্ষ্য করা গেছে। তাদের বায়োমেট্রিক সনাক্তকরণ প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।



