মাদক প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন জরুরি: চট্টগ্রামে মানববন্ধন
মাদক প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন জরুরি: চট্টগ্রামে মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা বলেছেন, মাদকের বিস্তার ঠেকাতে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং সমাজজুড়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলেই মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে মানববন্ধন

প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে আজ শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় নগরের প্রেসক্লাব চত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে প্রথম আলো বন্ধুসভা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, বন্ধুসভার সদস্য এবং সচেতন নাগরিকেরা অংশ নেন।

প্ল্যাকার্ডে মাদকবিরোধী বার্তা

অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল মাদকবিরোধী বিভিন্ন বার্তাসংবলিত প্ল্যাকার্ড—‘মাদককে না বলুন’, ‘মাদক এক মরণফাঁদ’, ‘মাদক থেকে দূরে থাকুন’, ‘মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি’, ‘মাদকের সবটাই অপকার, কোনো উপকারী দিক নেই’ এবং ‘মাদক গ্রহণে দৈহিক ও মানসিক ক্ষতি হয়’।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্বজিৎ চৌধুরীর বক্তব্য

মানববন্ধনে প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও সাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়; একটি পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই তরুণদের সঠিক পথে রাখতে পরিবারে মূল্যবোধের চর্চা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা এবং সামাজিক প্রতিরোধ একসঙ্গে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন যত শক্তিশালী হবে, ততই একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে ওঠার পথ প্রশস্ত হবে।

আজাদ বুলবুলের মতামত

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সাবেক উপপরিচালক আজাদ বুলবুল বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শামসুদ্দীন শিশিরের বক্তব্য

টিচার্স ট্রেনিং কলেজ চট্টগ্রামের অধ্যাপক শামসুদ্দীন শিশির বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও আত্মনিয়ন্ত্রণের চর্চা বাড়াতে হবে। পরিবার ও শিক্ষকদের সম্মিলিত ভূমিকা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।

সঞ্জয় বিশ্বাসের বক্তব্য

চট্টগ্রাম বন্ধুসভার উপদেষ্টা সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তির সমস্যা নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও অর্থনৈতিক সংকট। মাদকের কারণে পারিবারিক সম্পর্ক ভেঙে যায়, অপরাধপ্রবণতা বাড়ে এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাই মাদক প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক নজরদারি এবং নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা জোরদার করতে হবে।

মো. নাজিম উদ্দিনের বক্তব্য

চট্টগ্রাম বন্ধুসভার উপদেষ্টা মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। পরিবারে সন্তানদের সময় দেওয়া, তাদের মানসিক পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা এবং খোলামেলা পারিবারিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

রুমিলা বড়ুয়ার বক্তব্য

চট্টগ্রাম বন্ধুসভার সভাপতি রুমিলা বড়ুয়া বলেন, তরুণদের সচেতন করে তোলাই মাদক প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই মাদকবিরোধী বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম বন্ধুসভার সহসভাপতি নুরুজ্জামান খান কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন।