ভোলায় কলেজছাত্র খুন: ছুরি হাতে থানায় স্কুলছাত্র, আটক ১
ভোলায় কলেজছাত্র খুন: ছুরি হাতে থানায় স্কুলছাত্র

প্রেমঘটিত বিরোধে খুন: ছুরি হাতে থানায় স্কুলছাত্র

ভোলার লালমোহনে প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে স্কুলছাত্রের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মো. ইব্রাহিম খলিল নয়ন (১৮) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই যুবক। হত্যাকারী আব্দুল্লাহ আল মানিক (১৬) ছুরি হাতে নিজেই লালমোহন থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে।

ঘটনার বিবরণ

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে লালমোহন পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের স্বনির্ভর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নয়ন ড. আজাহার উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের ছাত্র। তিনি পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী ছালাউদ্দিনের ছেলে।

হত্যাকারী মানিক উপজেলা সংলগ্ন আব্দুল ওহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। সে লালমোহন সদর ইউনিয়নের উত্তর ফুলবাগিচা গ্রামের মো. আলাউদ্দিনের ছেলে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরীক্ষা শেষে হত্যাকাণ্ড

স্কুলের শিক্ষকরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে আব্দুল ওহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা দেয় আব্দুল্লাহ আল মানিক। পরীক্ষা শেষ হওয়া মাত্র দুপুর ১টার দিকে বিদ্যালয়ের গেট থেকে মানিককে নিয়ে যায় কয়েকজন বহিরাগত ছাত্র। পরে তারা শুনতে পান স্কুলের পাশে স্বনির্ভর সড়কে তাদের ছাত্র মানিক হত্যা করেছে।

প্রেমঘটিত বিরোধের জের

বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা যায়, দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমঘটিত ঘটনা নিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী মানিকের সঙ্গে একই ক্লাসে পড়ে। প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে ডা. আজাহার উদ্দিন কলেজের ছাত্র ইব্রাহিম খলিল নয়ন (১৮), মো. আরমান (২২) ও মো. আশরাফের (২৫) সঙ্গে মোবাইলে ছবি ও ভিডিও নিয়ে মানিকের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এর জের ধরে বৃহস্পতিবার মানিক নিজ বাসা থেকে চাকু নিয়ে আসে। পরীক্ষার পর বের হয়ে স্বনির্ভর সড়কে গিয়ে কথা কাটাকাটি করে একপর্যায়ে চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে তিনজনকে। এ সময় সেখানে আরেক ছাত্র উপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে। সে সুস্থ রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহত ও আহত

ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় ইব্রাহিম খলিল নয়ন। আহত হন আরমান ও আশরাফ। আহতদের বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিত কুমার ঘোষ বলেন, "লালমোহন পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডে দুপুর ১টায় আব্দুল ওহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে বালির মাঠে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে মূল অভিযুক্ত মানিকের ছুরিকাঘাতে একজন নিহত ও দুইজন আহত হয়। মূল আসামি আমাদের হেফাজতে আছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তসাপেক্ষে মূল ঘটনা জানা যাবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

বিক্ষোভ

হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় ছাত্ররা লালমোহন থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেয়।