পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নুর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও আজকের পত্রিকার কলাপাড়া প্রতিনিধি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন (৪০) হামলার শিকার হয়েছেন। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে কলাপাড়া পৌর শহরের মাছ বাজার–সংলগ্ন সদর রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মোয়াজ্জেম হোসেন এ হামলার জন্য ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের দায়ী করেছেন।
ঘটনার বিবরণ ও আহত সাংবাদিকের ভাষ্য
আহত সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি কলাপাড়া পৌর শহরের সদর রোডের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ওরফে ফাহিম এবং সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন ছাত্রদল নেতা–কর্মী তাঁকে দোকান থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। এরপর রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি দৌড়ে দোকানের ভেতরে আশ্রয় নিলে তাঁকে আবার টেনে বের করে দ্বিতীয় দফায় মারধর করা হয়। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। পরে হামলাকারী ব্যক্তিরা তাঁকে রাস্তায় ফেলে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
পূর্বের ঘটনার জের ও নিরাপত্তাহীনতা
এর আগে ২১ জুন শহরের বাদুরতলী এলাকায় সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেনের ভগ্নিপতি আনিসুর রহমানের দোকানঘর ও বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জন্য তাঁরা সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেনকে দায়ী করেন। মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আগের ঘটনার জের ধরেই তাঁর ওপর এ হামলা হয়েছে। তিনি নিরাপত্তাহীন বোধ করছেন।
ছাত্রদল নেতাদের বক্তব্য
সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি বেল্লাল হোসেন বলেন, তিনি বর্তমানে বরিশালে এলএলবি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। ঘটনাটি সম্পর্কে পরে শুনেছেন। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। কে বা কারা এ হামলা করেছে, তা তিনি জানেন না। এ ঘটনায় তিনি জড়িত নন বলেও দাবি করেন। তবে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ওরফে ফাহিম এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
জেলা ছাত্রদল ও বিএনপির প্রতিক্রিয়া
পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব জাকারিয়া আহমেদ বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। তাঁরা ঘটনার খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে মোয়াজ্জেম হোসেনের ওপর হামলার খবর পেয়ে কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন শিকদার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তাঁকে দেখে আসেন। এ সময় তিনি বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দলীয় ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিকিৎসা ও তদন্ত
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল মালেক বলেন, তাঁকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে, তখন তিনি ভালোভাবে কথা বলতে পারছিলেন না। রাস্তার ওপর ফেলে মারধর করার কারণে মাথায় আঘাত লেগেছে, তবে কোনো ক্ষত হয়নি। ওনার শরীরেও বিভিন্ন জায়গায় আঘাত লেগেছে। গতকাল রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বরিশাল শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।



