আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসে দিনাজপুরে মানববন্ধন ও সামাজিক প্রতিরোধের আহ্বান
মাদকবিরোধী দিবসে দিনাজপুরে মানববন্ধন ও সামাজিক প্রতিরোধের আহ্বান

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষের শারীরিক ক্ষতিই করে না, বরং এটি ধীরে ধীরে তাঁর বিবেক, মেধা, নৈতিকতা, মানসিক সুস্থতা ও ভবিষ্যতকে ধ্বংস করে দেয়। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি শুধু নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, তাঁর পরিবারে নেমে আসে অশান্তি, আর্থিক সংকট ও সামাজিক অবক্ষয়। ফলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

মানববন্ধন কর্মসূচি

দিনাজপুর বন্ধুসভার সহযোগিতায় ২৬ জুন বিকেলে জেলা প্রেসক্লাবসংলগ্ন সড়কে এ কর্মসূচির আয়োজন করে প্রথম আলো ট্রাস্ট। মানববন্ধনে বন্ধুসভার সদস্য, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকেরা অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

মাদকাসক্তির বর্তমান চিত্র

ভাবনা মাদকাসক্তি নিরাময় ও পরামর্শকেন্দ্রের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান রূপম মাদকদ্রব্যের ভয়াবহ কুফল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে কৌতূহল, বন্ধুদের প্রভাব এবং মানসিক চাপের কারণে মাদকের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে। শুধু পুরুষ নয়, নারীদের মধ্যেও মাদকাসক্তির প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই পরিবারকে আরও সচেতন হতে হবে এবং সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বরূপ কুমার বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। স্বরূপ কুমার বাচ্চু বলেন, ‘মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা এবং সহজে লাভজনক অবৈধ বাণিজ্য আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। একজন ব্যক্তি মাদকাসক্ত হলে তিনি শুধু নিজের ক্ষতি করেন না। তাঁর পুরো পরিবারকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ফেলেন। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কঠোর ব্যবস্থার দাবি

উন্নয়নকর্মী ও বন্ধুসভার বন্ধু মুকিদ হায়দার মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘যারা অবৈধভাবে মাদক ব্যবসা করে সমাজকে ধ্বংস করছে, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবামূলক কাজে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মাদক থেকে দূরে রাখার উদ্যোগ বাড়াতে হবে।’

প্রথম আলোর প্রতিনিধির বক্তব্য

প্রথম আলোর দিনাজপুর প্রতিনিধি রাজিউল ইসলাম তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই দিনাজপুর বন্ধুসভার বন্ধুদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য, চলমান সংকট, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং উদ্ভাবনী ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিভিন্ন মাদকসেবী ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্দশার চিত্রও তুলে ধরেন।

উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান

দিনাজপুর বন্ধুসভার সভাপতি শবনম মুস্তারিন বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে মাদকাসক্ত। অর্থাৎ, প্রতি ১৮ জনে একজন মাদকসেবী। এ পরিস্থিতির জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী করব মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা এবং এর লাভজনক অবৈধ বাণিজ্যকে। গতকালই দিনাজপুরে বিজিবি প্রায় ১১ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করেছে। এটি শুধু দিনাজপুরের চিত্র। দেশজুড়ে মাদক চোরাকারবারিরা অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ মাদক দেশে প্রবেশ করাচ্ছে এবং আমাদের তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’

সামাজিক আন্দোলনের অঙ্গীকার

মানববন্ধনে উপস্থিত বন্ধুসভার বন্ধুরা প্ল্যাকার্ডে মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান তুলে ধরেন। শেষে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।