বকশীগঞ্জে বৃদ্ধ আকালু মিয়ার ব্যাটারিচালিত ভ্যান ছিনতাই, ভিডিও ভাইরাল
বৃদ্ধের ভ্যান ছিনতাই: ভিডিও ভাইরাল, আহাজারিতে কাঁদছে সোশ্যাল মিডিয়া

বকশীগঞ্জে বৃদ্ধ আকালু মিয়ার ব্যাটারিচালিত ভ্যান ছিনতাই, ভিডিও ভাইরাল

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় এক বৃদ্ধের ব্যাটারিচালিত ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। বৃদ্ধ আকালু মিয়ার ভ্যান হারানোর পর তাঁর মর্মস্পর্শী আহাজারির একটি ভিডিও আজ শনিবার ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা যেমন ক্ষুব্ধ, তেমনি পুলিশও ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

ছিনতাইয়ের ঘটনা ও আহাজারির মর্মান্তিক দৃশ্য

গতকাল শুক্রবার বিকেলে বকশীগঞ্জ উপজেলার নামাপাড়া এলাকায় এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। আক্রান্ত বৃদ্ধ আকালু মিয়ার বয়স ৬০ বছর। তাঁর বাড়ি উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের ধাতুয়াকান্দা গ্রামে। ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন আকালু মিয়া। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে তিনি আশপাশের লোকজনকে বলছেন, ‘ভাইয়েরা, আমার ভ্যানটা নিয়ে গেল! এই ভ্যানটাই ছিল সবকিছু। সারা দিন কষ্ট করে ভ্যান চালিয়ে যা আয় করি, তা–ই দিয়ে সংসার চলে।’

কথার একপর্যায়ে আকালু মিয়া মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন, মাটিতে গড়াগড়ি করতে থাকেন। এর একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘এই ভ্যানটাই ছিল আমার রুজির একমাত্র ভরসা।’ এমন আহাজারি শুনে আশপাশের অনেকে আকালুকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু তাঁর বেদনা যেন থামছেই না।

ছিনতাইয়ের বিস্তারিত বিবরণ

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, গতকাল বিকেলে আকালু মিয়ার ভ্যানে যাত্রী বেশে ওঠেন অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি। ভ্যানটি ওই উপজেলার নামাপাড়া এলাকায় পৌঁছালে আকালুকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেন ওই ব্যক্তি। পরে ভ্যানটি নিয়ে দ্রুত সটকে পড়েন ছিনতাইকারী।

এ বিষয়ে আকালু মিয়া বলেন, ‘আমার মতো অসহায় লোকের গাড়িটি নিয়ে গেল! সমিতির কিস্তি নিয়ে গাড়িটি কিনেছিলাম, এখন কিস্তি দেব কীভাবে?’ তাঁর কথায় ফুটে উঠেছে আর্থিক সংকটের গভীর চাপ, যা এই ঘটনাকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।

পুলিশের তদন্ত ও চ্যালেঞ্জ

ঘটনাটি পৌর শহরের বাইরে হওয়ায় কোনো সিটিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি বলে জানান বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন। তিনি বলেন, ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে, সিটিটিভি ফুটেজের অভাবে তদন্তে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে পুলিশকে।

স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, এই ধরনের ঘটনা বাড়লে এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তারা দ্রুত ছিনতাইকারীর গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সামাজিক মাধ্যমের প্রতিক্রিয়া

আকালু মিয়ার আহাজারির ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক সমবেদনা ও ক্ষোভের প্রকাশ দেখা গেছে। অনেকেই এই ঘটনাকে নিরীহ মানুষের ওপর চরম অবিচার হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই ঘটনা শুধু একটি ছিনতাইয়ের গল্প নয়, বরং এটি সমাজের দুর্বল ও অসহায় মানুষের জীবনসংগ্রামের একটি মর্মস্পর্শী চিত্র তুলে ধরেছে। আকালু মিয়ার মতো মানুষদের সুরক্ষা ও সহায়তা প্রদান করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।