পাথরঘাটায় গণপিটুনি: চোখ উপড়ে যুবক হত্যা, উত্তেজিত এলাকাবাসীর হামলা
পাথরঘাটায় গণপিটুনিতে যুবক হত্যা, চোখ উপড়ে ফেলা

পাথরঘাটায় গণপিটুনিতে যুবক হত্যা: চোখ উপড়ে ফেলার নৃশংস ঘটনা

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় এক নৃশংস ঘটনায় আবুল বাশার সুজন নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে চোখ উপড়ে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে, যার পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করেছে।

ঘটনার বিবরণ ও উত্তেজনার সূত্রপাত

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে সুজন একই এলাকার কালু মিয়াকে মোবাইল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মারধর করেন। এই খবর পেয়ে কালুর বড় ভাই রিয়াজ ঘটনাস্থলে এলে সুজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় সুজন রিয়াজকে কুপিয়ে তার হাত বিচ্ছিন্ন করে দেন, যা এলাকাবাসীকে প্রচণ্ড উত্তেজিত করে তোলে।

গণপিটুনি ও হত্যার নৃশংসতা

পরের দিন শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উত্তেজিত এলাকাবাসী সুজনের বাড়িতে গিয়ে তাকে গণপিটুনি দেয় এবং চোখ উপড়ে ফেলে। এছাড়া তারা তার ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। দুপুর ২টার দিকে পাথরঘাটা থানা পুলিশ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সুজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশি তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ

পাথরঘাটা থানার উপপরিদর্শক অশিত কুমার জানিয়েছেন, লাশ পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং ঘটনার পেছনের কারণ তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চিকিৎসা

ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টহল বাড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, রিয়াজ বর্তমানে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যার হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং নৃশংসতার মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত ও শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।