এপস্টিন নথিতে মেডেলিন ম্যাকক্যানের নাম, নতুন করে আলোচনায় নিখোঁজ শিশুর রহস্য
এপস্টিন নথিতে মেডেলিন ম্যাকক্যানের নাম, নিখোঁজ রহস্য আবার আলোচনায়

এপস্টিন নথিতে মেডেলিন ম্যাকক্যানের নাম, নতুন করে আলোচনায় নিখোঁজ শিশুর রহস্য

প্রায় দুই দশক আগে পর্তুগালের একটি রিসোর্ট থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন বছর বয়সী যুক্তরাজ্যের শিশু মেডেলিন ম্যাকক্যানের নাম আবারও সামনে এসেছে জেফরি এপস্টিন–সংশ্লিষ্ট নথির সুবাদে। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টিন ও তাঁর সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের মামলাসংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে একটি নথিতে মেডেলিনকে নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা ও শিশুটির ডান চোখের চিহ্ন

এপস্টিন মামলার নথিতে ‘ইএফটিএ০১২৪৯৬১৮’ চিহ্নিত একটি নথিতে মেডেলিন ম্যাকক্যানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা মূলত ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরের একটি ঘটনার বিবরণ। এক অজ্ঞাতপরিচয় প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি রাস্তায় হাঁটার সময় এক নারী ও একটি ছোট শিশুকে দেখতে পান, যেখানে শিশুটি দেখতে হুবহু নিখোঁজ মেডেলিন ম্যাকক্যানের মতো।

জবানবন্দিতে বলা হয়, শিশুটি পুরোটা সময় তার ডান চোখ হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিল এবং বারবার পেছনের দিকে তাকাচ্ছিল। মেডেলিন ম্যাকক্যানের নিখোঁজ সংবাদে সব সময়ই তার ডান চোখের ‘কোলোবোমা’ নামক বিরল দাগের কথা উল্লেখ করা হতো, যা এই বর্ণনাকে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০০৯ সালে মেডেলিনের বয়স হওয়ার কথা ছিল ছয় বছর, যা প্রত্যক্ষদর্শীর দেখা শিশুটির বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

গিলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে মিল ও পুরোনো স্কেচ

প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, তিনি ওই নারীকে দেখে গিলেন ম্যাক্সওয়েলের মতো মনে করেছেন এবং বিষয়টি প্রথমে একটি ওয়েবসাইটে রিপোর্ট করলেও পুলিশকে জানাননি। কয়েক বছর পর গিলেন ম্যাক্সওয়েলের গ্রেপ্তারের খবর দেখে তিনি আবার বিষয়টি জানান।

এই আলোচনার রেশ ধরে ২০০৯ সালে প্রকাশিত একটি ‘ই-ফিট’ বা ইলেকট্রনিক স্কেচও আবার সামনে এসেছে। মেডেলিনের মা–বাবার নিয়োগ করা বেসরকারি গোয়েন্দারা ওই সময় ভিক্টোরিয়া বেকহামের মতো দেখতে এক নারীর স্কেচ প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে দাবি করা হয়েছিল ২০০৭ সালের ৭ মে বার্সেলোনায় এক নারীর কাছে মেডেলিনকে দেখা গিয়েছিল। সম্প্রতি অনলাইনে অনেকেই সেই স্কেচের সঙ্গে গিলেন ম্যাক্সওয়েলের চেহারার মিল খুঁজছেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নিখোঁজ রহস্যের দুই দশক

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই জবানবন্দি থেকে মেডেলিনের নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে এপস্টিন বা গিলেনের সরাসরি জড়িত থাকার কোনো অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায় না। এ তথ্যের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো তদন্তও শুরু হয়নি।

২০০৭ সালের ৩ মে পর্তুগালের আলগারভ অঞ্চলের প্রাইয়া দা লুজ রিসোর্ট থেকে নিখোঁজ হয় মেডেলিন, যখন তার বাবা-মা কেট ও জেরি ম্যাকক্যান পাশেই একটি রেস্তোরাঁয় নৈশভোজ করছিলেন। পর্তুগিজ পুলিশ শুরুতে একে অপহরণ বললেও বছরের পর বছর তদন্তে কোনো কূলকিনারা হয়নি, এবং আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত এই নিখোঁজ রহস্য আজও এক অমীমাংসিত অধ্যায় হয়ে রয়েছে।