রাউজানে সন্ত্রাসী হত্যার শিকার ব্যবসায়ীর ছেলের আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট, ভোটারদের সচেতন হওয়ার আহ্বান
রাউজানে হত্যার শিকার ব্যবসায়ীর ছেলের ফেসবুক পোস্ট, ভোটারদের সচেতন হওয়ার আহ্বান

রাউজানে সন্ত্রাসী হত্যার শিকার ব্যবসায়ীর ছেলের আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট, ভোটারদের সচেতন হওয়ার আহ্বান

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের (৫৫) ছেলে মাকসুদ আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে বাবার ছবি ও কবরের ছবি প্রকাশ করে তিনি ভোটারদের সচেতনভাবে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে আবেগঘন বার্তা

মাকসুদ আলম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, 'আগামীকালের নির্বাচনে আপনারা এমন কাউকে ভোট দেবেন না, যাকে ভোট দিলে আমার মতো কেউ এতিম হবে। কোনও নারী অকালে বিধবা হবে, কিংবা কোনও মা তার সন্তান হারাবে। আপনার একটি ভোট যেন অন্য কারও কান্নার কারণ না হয়। ভেবেচিন্তে বিবেচনা করে ভোট দিন।' তার এই স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং অনেক ব্যবহারকারী এতে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন।

রাজনৈতিক আধিপত্য ও সহিংসতার পটভূমি

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আধিপত্য ও সহিংসতার কারণে চট্টগ্রামের রাউজানে অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জাহাঙ্গীর আলমের স্বজনদের দাবি, চাঁদা না দেওয়ায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। গত বছরের ২৪ জানুয়ারি জুমার নামাজ আদায় করতে গ্রামের বাড়ি রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন তিনি।

হত্যা মামলা ও তদন্তের অগ্রগতি

এই ঘটনায় মাকসুদ আলম রাউজান থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে, কিন্তু এখনও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। নিহত জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আসদ আলী মাতব্বর পাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আবু সৈয়দের ছেলে ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম নগরের খাতুনগঞ্জে শুঁটকির পাইকারি ব্যবসা করতেন এবং এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টার পরিচালনা করতেন।

পরিবারের নিরাপত্তাহীনতা ও স্থানীয় পরিস্থিতি

পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার পর থেকে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজানে এ পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪টি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতি স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও ভীতির সৃষ্টি করেছে।

মাকসুদ আলমের ফেসবুক পোস্টটি নির্বাচনী সময়ে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।