কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসমত উল্লাহ (২২) নামে এক রোহিঙ্গা তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে ক্যাম্প-৮–এর বি ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ হাসমত উল্লাহ ক্যাম্প-৮–এর বাসিন্দা।
গুলিবিদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি
আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এক কর্মকর্তা জানান, পুলিশ সদস্যরা গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে প্রথমে ক্যাম্পের ব্র্যাক হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসমত উল্লাহর ডান হাতে দুটি গুলি লেগেছে।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ
পুলিশ ও রোহিঙ্গা নেতাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি আশ্রয়শিবিরে নবী হোসেন বাহিনী নামে পরিচিত আরাকান রোহিঙ্গা আর্মির (এআরএ) সঙ্গে আরেক সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশনের (এআরও) আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চরমে ওঠে। গত ৬ মে বেলা আড়াইটার দিকে বালুখালী আশ্রয়শিবিরে এআরও সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন নবী হোসেন বাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার মোহাম্মদ কামাল প্রকাশ নুর কামাল (৪৫)। তিনি নবী বাহিনীর প্রধান নবী হোসেনের ছোট ভাই। তার আগের দিন ৫ মে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বালুখালী ক্যাম্প-৭–এ নবী হোসেন বাহিনীর সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন এআরও কমান্ডার কেফায়েত উল্লাহ হালিম (৪৫)। ওই সময় আরও দুই রোহিঙ্গা গুলিবিদ্ধ হন।
সর্বশেষ গোলাগুলির ঘটনা
পুলিশ ও রোহিঙ্গা নেতারা জানান, এর জের ধরে মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে ১০-১২ জনের একদল সন্ত্রাসী ক্যাম্প-৮ পশ্চিম আশ্রয়শিবিরে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি চালায়। এতে হাসমত উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হন। তিনি নবী হোসেন বাহিনীর সদস্য বলে দাবি করে এক রোহিঙ্গা নেতা বলেন, এআরও বাহিনীর সন্ত্রাসীরা নবী হোসেন বাহিনীর (এআরএ) আস্তানায় হামলা চালায়। এ ঘটনায় আশ্রয়শিবিরে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, সন্ত্রাসীদের ধরতে আশ্রয়শিবিরে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। টহল জোরদার করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা শিবিরের বর্তমান পরিস্থিতি
উল্লেখ্য, উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৪ লক্ষাধিক। এর মধ্যে ৮ লাখ এসেছে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পরের কয়েক মাসে। গত আট বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। উল্টো গত দেড় বছরে রাখাইন রাজ্য থেকে নতুন করে এসেছে আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, বর্তমানে আশ্রয়শিবিরগুলোতে নয়টির বেশি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে।



