কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারও সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক রোহিঙ্গা নেতা নিহত এবং আহত হয়েছেন আরও দুজন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উখিয়ার নৌকারমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন ক্যাম্প-৭ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিচয় ও আহতরা
নিহতের নাম কেফায়েত উল্লাহ হালিম। তিনি ক্যাম্প-৭-এর ব্লক-এফ/২-এর বাসিন্দা এবং বাদশা মিয়ার ছেলে। কেফায়েত মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) নেতা ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আহতরা হলেন– একই ক্যাম্পের ব্লক-এ/৪-এর তোফায়েল আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ উল্লাহ (৩৭) এবং ব্লক-জি-এর নুর মোহাম্মদ (৩০)।
হামলার বিবরণ
১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) সিরাজ আমিন জানান, সন্ধ্যায় ক্যাম্প-৮/ইস্ট (বালুখালী) এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে নিজ নিজ শেডে ফেরার পথে ক্যাম্প-৮/ইস্ট ও ক্যাম্প-৭-এর মধ্যবর্তী তরজার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা হতাহতদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কেফায়েত উল্লাহ হালিম মারা যান। আহত দুজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতের অতীত ও তদন্ত
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নিহত হালিম দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি সীমান্তকেন্দ্রিক মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



