কক্সবাজারের টেকনাফের আশ্রয়শিবির থেকে পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের’ (টিটিপি) সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মোহাম্মদ উল্যাহ (২০) নামে এক রোহিঙ্গা তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ
পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা আশ্রয়শিবিরে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ উল্যাহকে গ্রেপ্তার করে টেকনাফ থানার একদল পুলিশ। মোহাম্মদ উল্যাহ আশ্রয়শিবিরের এফ-ব্লকের বাসিন্দা আবদুল করিমের ছেলে। এ সময় একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেন টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার মোহাম্মদ উল্যাহর সঙ্গে টিটিপির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর মোবাইল ফোনে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে।’
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনাক্ত
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ অহিদুর রহমান বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় রোহিঙ্গা মোহাম্মদ উল্যাহকে শনাক্ত করা হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আজ দুপুরে মোহাম্মদ উল্লাহকে কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মোহাম্মদ অহিদুর রহমান বলেন, ‘জব্দ মুঠোফোনে বিভিন্ন বার্তা, ডকুমেন্ট ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।’
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মোহাম্মদ উল্যাহ ‘হাকিকত নিউজ’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য, যা পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন টিটিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। গ্রুপটি উর্দু ভাষায় পরিচালিত হয় এবং এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইডি
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া টেকনাফ থানার এসআই মো. বেলাল বলেন, মোহাম্মদ উল্যাহ ‘আয়াতুল্লাহ বিডি আহাম্মেদ’ নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইডি খুলেছেন। ওই আইডি থেকে এবং মুঠোফোনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে টিটিপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন তিনি। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসার (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি) একটি ছাত্রসংগঠনের সঙ্গেও জড়িত এবং তাদের সামরিক শাখার সঙ্গে মোহাম্মদ উল্যাহর যোগাযোগ রয়েছে।
নজরদারি বৃদ্ধি
পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী তৎপরতা প্রতিরোধে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।



