ভারতের মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর থেকে কাংপোকপির দিকে যাওয়ার পথে একটি গাড়িবহরে সন্ত্রাসীদের হামলায় গির্জার তিন নেতা নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার সকালে এই হামলার ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন। কুকি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তাঁরা হলেন রেভারেন্ড ভি সিতলৌ, রেভারেন্ড কাইগৌলেন ও যাজক (প্যাস্টর) পাওগৌলেন। নিহত ব্যক্তিরা সবাই ‘থাডৌ ব্যাপ্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এর সদস্য।
হামলার বিবরণ
চূড়াচাঁদপুরে গির্জার নেতাদের একটি বৈঠক শেষে তাঁরা কাংপোকপিতে ফিরছিলেন বলে জানা গেছে। পুলিশ জানায়, কাংপোকপির কোটজিম ও কোটলেন এলাকার মাঝামাঝি জায়গায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় ওই দল দুটি গাড়িতে করে যাচ্ছিল। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো এই হামলা চালিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট
মণিপুরে মেইতেই ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে তিন বছর ধরে সংঘাত চলছে। এর মধ্যেই চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উখরুল জেলায় কুকি ও তাংখুল নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যেও নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। সেই উত্তেজনা দিন দিন বেড়ে চলছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল।
নিহত ব্যক্তিদের পরিচয়
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হলেন ভুমথাং সিতলৌ। তিনি এর আগে মণিপুর ব্যাপ্টিস্ট কনভেনশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কাংপোকপিভিত্তিক সংগঠন কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটির নেতা থাংটিনলেন হাওকিপ বলেন, কুকি ও নাগাদের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে সিতলৌ সম্প্রতি কোহিমায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি মীমাংসা বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
প্রতিক্রিয়া
এ প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে কুকি ইনপি মণিপুর নামের সংগঠন বলেছে, ওই বৈঠকে দুই সম্প্রদায়ের খ্রিষ্টান নেতারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, ধৈর্য ও আলোচনার ওপর জোর দিয়েছিলেন। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এটিই ছিল সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ। যে মানুষটি শান্তি ও মীমাংসার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন, তিনি এমন নিষ্ঠুর ও পরিকল্পিত সহিংসতার শিকার হবেন, তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও ক্ষোভের বিষয়।
এই হামলায় সশস্ত্র নাগা গোষ্ঠী ‘জেলিয়াংরং ইউনাইটেড ফ্রন্ট’ জড়িত বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তারা আরও বলেছে, নিরস্ত্র গির্জা নেতা ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর আজকের এই জঘন্য অতর্কিত হামলা মূলত শান্তির চেতনার ওপরই একটি সরাসরি আঘাত। এ ছাড়া কুকি ইনপি এমন একটি জঘন্য ও কাপুরুষোচিত হামলার পেছনের উদ্দেশ্য ও সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কারণ, হামলাটি এমন এক মুহূর্তে ঘটেছে, যখন সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াতে এবং সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে চার্চের নেতা ও সুশীল সমাজের সংগঠনগুলো আন্তরিকভাবে শান্তির উদ্যোগ ও আলোচনাকে উৎসাহিত করছিল।
সরকারি প্রতিক্রিয়া
মণিপুর সরকার এই ঘটনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও বলেছেন, ‘মণিপুরে কুকি চার্চ নেতাদের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। নিরপরাধ মানুষের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যেকোনো সভ্য সমাজে এর কোনো স্থান নেই। শোকের এই কঠিন সময়ে আমি শোকসন্তপ্ত পরিবার ও চার্চ সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’



