মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের কল্যাণে নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ নিয়ন্ত্রণকক্ষ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সোমবার জারি করা অফিস আদেশ অনুযায়ী, এই নিয়ন্ত্রণকক্ষ মঙ্গলবার থেকে শুরু করে ১৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হবে।

নিয়ন্ত্রণকক্ষের অবস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা

প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সপ্তম তলায় অবস্থিত প্রবাসী কল সেন্টার এই নিয়ন্ত্রণকক্ষের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কোনো বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী বা তাদের পরিবারের সদস্যরা জরুরি সহায়তা প্রয়োজন হলে হটলাইন নম্বর +৮৮০৯৬১০২০৩০-এ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করতে পারবেন। এই হটলাইনটি বিশেষভাবে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের জন্য সহায়তা ও তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কার্যপরিধি

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া নিয়ন্ত্রণকক্ষের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন। অন্যদিকে, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মসংস্থান-১ শাখার উপসচিব মো. হেদায়েতুল ইসলাম মণ্ডল প্রধান কেন্দ্র কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তিন শিফটে বিভক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।

নিয়ন্ত্রণকক্ষের কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে:

  • মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে বিদেশে অবস্থিত শ্রমকল্যাণ উইংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা
  • প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ সংক্রান্ত জরুরি তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণ
  • যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান

প্রবাসী কল্যাণে সরকারের তৎপরতা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণকক্ষটি শুধুমাত্র যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, বরং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কাজ করবে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপটি সরকারের প্রবাসী নীতির একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা যুদ্ধ বা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুরক্ষা ও সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে। নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমে প্রবাসীরা সরাসরি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সমস্যা ও চাহিদা তুলে ধরতে পারবেন, যা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাদের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।