১৭ ফেব্রুয়ারিতে বিরল বলয়াকার সূর্যগ্রহণ, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া বঞ্চিত
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আকাশে সংঘটিত হতে যাচ্ছে একটি বিরল ও চমকপ্রদ মহাজাগতিক ঘটনা। এই দিনে বলয়াকার সূর্যগ্রহণ বা 'রিং অব ফায়ার' দেখা যাবে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের জন্য আকর্ষণীয় দৃশ্য বয়ে আনবে। তবে দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মানুষ এই বিরল দৃশ্য সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন না।
'রিং অব ফায়ার' কী এবং কীভাবে ঘটে?
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বলয়াকার সূর্যগ্রহণ তখনই সংঘটিত হয় যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান নেয়। কিন্তু এই সময় চাঁদ পৃথিবী থেকে তুলনামূলকভাবে দূরত্বে অবস্থান করে, যার ফলে চাঁদ সূর্যকে সম্পূর্ণরূপে আড়াল করতে পারে না। সূর্যের চারপাশে একটি উজ্জ্বল ও জ্বলজ্বলে বলয় দেখা যায়, যা 'রিং অব ফায়ার' বা আগুনের বলয় নামে পরিচিত। এই দৃশ্য মহাজাগতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ও দর্শনীয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
গ্রহণের সময় ও স্থায়িত্ব
নাসার সর্বশেষ তথ্য ও গণনা অনুসারে, এই বলয়াকার সূর্যগ্রহণ ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তারিখে ঘটবে। গ্রহণটি শুরু হবে আন্তর্জাতিক সময় বা ইউটিসি অনুযায়ী সকাল ৭টা ১ মিনিটে। বাংলাদেশের স্থানীয় সময়ের হিসেবে এটি দুপুর ১টা ১ মিনিটের দিকে শুরু হবে। বলয়াকার অংশটি সর্বোচ্চ প্রায় ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, যা দর্শকদের জন্য সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর মুহূর্ত সৃষ্টি করবে।
কোন কোন এলাকায় দৃশ্যমান হবে?
এই বিরল সূর্যগ্রহণ পৃথিবীর অত্যন্ত সীমিত ও নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল থেকে দেখা যাবে। প্রধানত অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের কিছু দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে 'রিং অব ফায়ার' সম্পূর্ণরূপে দৃশ্যমান হবে। এছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলের কয়েকটি দেশ এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে আংশিক সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
দুর্ভাগ্যবশত, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশ এই গ্রহণের দৃশ্যমানতার বাইরে থাকবে। ফলে এই অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ সরাসরি এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছেন যে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশে এই গ্রহণের কোনো প্রভাব বা দৃশ্য পরিলক্ষিত হবে না।
গ্রহণ দেখার সময় নিরাপত্তা সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন যে সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের সময় চোখের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য। যারা এই গ্রহণ দেখতে সক্ষম হবেন, তাদের জন্য অনুমোদিত ও মানসম্পন্ন সূর্যগ্রহণ চশমা ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। এই চশমাগুলো আইএসও ১২৩১২-২ মানদণ্ড অনুসরণ করে তৈরি করতে হবে।
খালি চোখে, সাধারণ সানগ্লাস বা সাধারণ চশমা পরে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর। এটি চোখের রেটিনায় স্থায়ী ক্ষতি সাধন করতে পারে, এমনকি দৃষ্টিশক্তি হ্রাস বা অন্ধত্বের কারণও হতে পারে। বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, নিরাপদ উপায়ে গ্রহণ পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ ফিল্টারযুক্ত টেলিস্কোপ বা পিনহোল প্রজেক্টরের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।
এই বলয়াকার সূর্যগ্রহণ মহাবিশ্বের জটিলতা ও সৌন্দর্যের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হবে। যদিও বাংলাদেশের মানুষ সরাসরি এটি দেখতে পারবেন না, তবুও আধুনিক প্রযুক্তি ও লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ থাকবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আগামী কয়েক বছরে আরও কিছু সূর্যগ্রহণের পূর্বাভাস দিয়েছেন, যার মধ্যে কিছু বাংলাদেশ থেকে দৃশ্যমান হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
