মধ্যপ্রাচ্যে নাজুক অধ্যায় শুরু, ইসরায়েল শান্তির বিরোধী: এরদোয়ান
মধ্যপ্রাচ্যে নাজুক অধ্যায় শুরু, ইসরায়েল শান্তির বিরোধী: এরদোয়ান

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে একটি অত্যন্ত নাজুক অধ্যায় শুরু হয়েছে উল্লেখ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। বুধবার তিনি বলেছেন, ইসরায়েল শান্তির ক্ষুদ্রতম সম্ভাবনারও বিরোধিতা করছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।

সংসদে এরদোয়ানের বক্তব্য

তুরস্কের পার্লামেন্টে নিজের দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টির এক সভায় দেওয়া বক্তব্যে এরদোয়ান বলেন, 'আমরা জানি যে ইসরায়েল শান্তির সামান্যতম সুযোগও সহ্য করতে পারে না।' অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'গত ১০ দিনে ইসরায়েলি রাজনীতিবিদদের দেওয়া বক্তব্যগুলো এটিই ইঙ্গিত করে যে, যুক্তিবোধ দ্বারা পরিচালিত কোনও রাষ্ট্রের পরিবর্তে আমাদের এমন এক উগ্রবাদী গোষ্ঠীর মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যারা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে।'

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

এরদোয়ান আরও বলেন, 'পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে সেখানে এখন প্রত্যেকেই একে অপরের বিরুদ্ধে কম মানুষকে হত্যা করা এবং কম রক্তপাত ঘটানোর অভিযোগ তুলছে।' তিনি ইসরায়েলের কিছু গোষ্ঠীকে অভিযুক্ত করে বলেন, তারা এই অঞ্চলে অস্ত্রের গর্জন থামুক তা চায় না এবং ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্প্রতি অর্জিত একটি সমঝোতা নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইসরায়েলকে 'গণহত্যাকারী নেটওয়ার্ক, যা সন্ত্রাস ও দখলদারত্বকে রাষ্ট্রের নীতিতে পরিণত করেছে' বলে আখ্যা দিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, 'গত ১০ দিনে সব পক্ষের প্রচেষ্টায় অর্জিত ‘কষ্টলব্ধ ঐকমত্য’ নস্যাৎ করতে ইসরায়েল সবকিছুই করেছে।'

শান্তি প্রক্রিয়ায় তুরস্কের অবস্থান

তিনি বলেন, এর জন্য দায়ীরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অপচেষ্টা চালিয়েই যাবে। 'যদি আমাদের অঞ্চলে শান্তি আসে, তবে তা ইসরায়েলকে উপেক্ষা করেই আসবে। যদি আমাদের অঞ্চলে স্বস্তি ফেরে, তবে তা ইসরায়েলের উসকানি সত্ত্বেও আসবে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান স্পষ্ট করেন যে, শান্তির যেকোনো সুযোগকে কাজে লাগাতে তুরস্ক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে। আগামী দিনে ইরানের সংকট নিরসনে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আঙ্কারা সমর্থন বজায় রাখবে।

আন্তর্জাতিক আলোচনার প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় রবিবার সুইজারল্যান্ডে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সেই সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব কটি ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হলেও, ইসরায়েল লেবাননে তাদের আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।