ঢাকায় সেমিনারে দাবি: আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরাইলের বিচার করতে হবে
ঢাকায় সেমিনারে ইসরাইলের বিচারের দাবি

ঢাকায় সেমিনারে ইসরাইলের বিচার ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধের জোরালো দাবি

শনিবার ঢাকার বারিধারা ডিওএইচএস কনভেনশন সেন্টারে সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতির আয়োজনে এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এই সেমিনারে বক্তারা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ করার পাশাপাশি দখলদার ইসরাইলের মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা বন্ধ করতে এবং আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে তাদের বিচারের দাবি জানান।

সেমিনারের মূল বক্তব্য ও আলোচনা

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সভাপতি ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ। ‘মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি: প্রোপাগান্ডা, বাস্তবতা এবং আমাদের অবস্থান’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন ড. আব্দুল বাসির। প্রবন্ধের আলোকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ খান, ড. ইমাম হোসেন, ড. মো. ইবরাহীম, ড. আবদুর রাউফসহ ইসলামি স্কলার ও বিজ্ঞ আলেমগণ।

বক্তারা তাদের আলোচনায় উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধবিগ্রহ মানবতার জন্য কাম্য নয় এবং এটি কল্যাণকরও নয়। তাই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই বিধ্বংসী যুদ্ধ যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে দখলদার ইসরাইলের মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা বন্ধ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে তাদের বিচার করতে হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান

সেমিনারে আলোচকরা বলেন, এ অঞ্চলে চলমান যুদ্ধে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা ও অপপ্রচার করা হচ্ছে। মূলত সৌদি আরব এ যুদ্ধে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়, তার পরও সৌদিকে পক্ষভূক্ত করা সমীচীন নয়। তারা জোর দিয়ে বলেন, এ যুদ্ধ মুসলিম-অমুসলিমদের ধর্মভিত্তিক কোনো যুদ্ধ নয়, বরং এ যুদ্ধের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার এবং এ অঞ্চলে ইরান ও তাদের সহযোগীদের শক্তি ও সামর্থ্য বাড়ানো।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অতএব, যুদ্ধে যাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই, তাদের বিরুদ্ধে সকল প্রকার অপপ্রচার বন্ধ করতে হবে। আলোচকরা সংবাদ মাধ্যমগুলোকে তথ্যনিষ্ঠ, বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক সংবাদ প্রচার করতেও অনুরোধ জানান।

সেমিনারের তাৎপর্য ও প্রভাব

এই সেমিনারটি ঢাকায় আন্তর্জাতিক বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী ও আলেম সম্প্রদায়ের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। বক্তাদের দাবিগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারী বিজ্ঞ আলেমগণ শান্তি ও ন্যায়বিচারের পক্ষে তাদের কণ্ঠস্বর উত্থাপন করেছেন, যা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ও শান্তি আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।